White House-এ আজ ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্বোধনী বৈঠক, গাজা পুনর্গঠনে ঘোষণা আসতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী Washington, D.C.-এ আজ বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট Donald Trump ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদের উদ্বোধনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৈঠকে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গাজা পুনর্গঠনের কৌশল ও সম্ভাব্য অর্থায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারেন তিনি।
গাজা পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা
বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে United States Institute of Peace-এ। জানা গেছে, গাজার মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে প্রাথমিকভাবে ৫ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের ঘোষণা আসতে পারে। পাশাপাশি গাজায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ গঠনের বিষয়েও আলোচনা হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্বঘোষিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজায় ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতি, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং একটি অন্তর্বর্তী শাসন কাঠামো গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।
তবে United Nations মনে করছে, গাজা পুনর্গঠনে মোট প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, শান্তি পর্ষদ ভবিষ্যতে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থায় পরিণত হবে। তিনি নিজেই এ পর্ষদের আজীবন চেয়ারম্যান হিসেবে থাকছেন।
তবে সমালোচকেরা এ উদ্যোগকে ‘সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ডা’ আখ্যা দিয়েছেন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি কার্যত জাতিসংঘের বিকল্প কাঠামো দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin-কে আমন্ত্রণ জানানোর কারণে বিতর্ক আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। নেতানিয়াহু আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেও পুতিন এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাননি।
কারা যোগ দিচ্ছে, কারা নয়
হোয়াইট হাউস ৫০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানালেও ৩৫টি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি দেশ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছে। অন্তত ১৪টি দেশ আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিচ্ছে না। ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট Ursula von der Leyen আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিয়েছেন। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও স্পেনও অংশ নিচ্ছে না। তবে ইইউ পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মিসর, তুরস্ক, জর্ডান, কাতার ও কুয়েত প্রতিনিধিত্ব করছে।
এশিয়া থেকে কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের নেতারা উপস্থিত থাকছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবো সুবিয়ান্তো ও ভিয়েতনামের নেতা তো লাম অংশ নিচ্ছেন। দক্ষিণ এশিয়া থেকে পাকিস্তান যোগ দিচ্ছে; তবে ভারত এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। নিউজিল্যান্ড আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে, অস্ট্রেলিয়া বিষয়টি পর্যালোচনায় রেখেছে।
দাভোসে উন্মোচন
গত মাসে সুইজারল্যান্ডের Davos-এ অনুষ্ঠিত World Economic Forum বৈঠকের ফাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তি পর্ষদের ধারণা উপস্থাপন করা হয়। সেখানে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার গাজাকে আধুনিক অবকাশকেন্দ্র হিসেবে পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনার রূপরেখা দেন, যা ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীদের মধ্যে সমালোচনার জন্ম দেয়।
উদ্বোধনী বৈঠকের সিদ্ধান্ত শুধু গাজার ভবিষ্যৎ নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতির ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে