77°F শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

ভারতে রান্নার গ্যাস সংকট ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে, সরকার বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

বস্টন বাংলা, Boston Bangla

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ২৭
ভারতে রান্নার গ্যাস সংকট ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে, সরকার বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

 ভারতে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধিকে ঘিরে দেশজুড়ে উদ্বেগ ও অস্থিরতা বাড়ছে। বিভিন্ন রাজ্যে দীর্ঘ লাইন, সরবরাহে অনিয়ম এবং বাণিজ্যিক খাতে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদিও সরকার বলছে, পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, রান্নার গ্যাসের সরবরাহ অব্যাহত থাকবে এবং জনগণের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। একই সুরে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সংসদে জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত পেট্রল ও ডিজেল মজুত রয়েছে এবং গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন রাজ্যে গ্যাসের দোকানের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেক জায়গায় বুকিং করতেও গ্রাহকদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় ছোট-বড় হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্যানটিন এবং রাস্তার পাশের অসংখ্য চা–নাশতার দোকান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মাছ ধরার ট্রলারসহ কিছু শিল্প খাতেও এর প্রভাব পড়ছে।

গৃহস্থালির জন্য এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ইতোমধ্যে সিলিন্ডারপ্রতি ৬০ রুপি এবং বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ১১৫ রুপি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় সিলিন্ডার বুকিংয়ের সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। বড় শহরের বাইরে ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলে এ সময়সীমা ৪৫ দিন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংকটের মধ্যে কালোবাজারি ও মজুতদারির অভিযোগও সামনে আসছে। এ পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কয়েকটি রাজ্যে ‘এসমা’ আইন জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংকটের কারণে অনেক মানুষ গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎচালিত ইনডাকশন কুকারের দিকে ঝুঁকছেন। আবার নিম্নআয়ের অনেক পরিবার কাঠ, কয়লা বা ঐতিহ্যগত জ্বালানি ব্যবহারে ফিরে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারও সাময়িকভাবে এসব জ্বালানি ব্যবহারে এক মাসের জন্য ছাড় দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে। বিরোধী দলগুলো সংসদে রান্নার গ্যাস সংকট নিয়ে আলোচনা দাবি করলেও লোকসভার স্পিকার তা অনুমোদন দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে শুক্রবার কয়েক দফা লোকসভার অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায় এবং বিরোধী দলগুলোর সদস্যরা সংসদ ভবন চত্বরে বিক্ষোভ করেন।

সরকারি দল বিজেপির নেতারা অভিযোগ করেছেন, বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী জনগণের মধ্যে অযথা আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন। তাদের দাবি, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও চলমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রভাব অনেক দেশের মতো ভারতেও পড়ছে, তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে ভারতের জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে।