টেলিকমে ‘দুর্নীতির সুযোগ রাখিনি’, ফেসবুকে হুঁশিয়ারি ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, টেলিকম খাতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দুর্নীতির কোনো সুযোগ রাখেননি। একই সঙ্গে কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “পাঙ্গা লড়তে আইসেন না, মুখ খুললে বহু ভদ্রলোকের প্যান্ট খুলে যাবে।”
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এর একদিন আগে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি দেশ ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।
‘লাইসেন্স না দেওয়ায় অনেকে নাখোশ’
পোস্টে তৈয়্যব দাবি করেন, টেলিকম খাতে দুর্নীতির প্রধান উৎস হচ্ছে লাইসেন্স প্রদান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি কোনো নতুন লাইসেন্স দেননি। ফলে দুর্নীতির সুযোগও তৈরি হয়নি।
তার ভাষায়, “লাইসেন্স না দেওয়ায় বহু দলের বহু লোকে নাখোশ হয়েছে। দরকার হলে সে গল্প পরে লেখা যাবে।” তিনি আরও বলেন, কাজ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করতে, ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়।
আইসিটি খাতে একাধিক আইন ও নীতিমালা
ফেসবুক পোস্টে আইসিটি ও টেলিকম খাতে নিজের সময়কালে প্রণীত বিভিন্ন আইন, অধ্যাদেশ ও নীতিমালার তালিকা তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে—
তিনি দাবি করেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের ডেটা গভর্নেন্স কাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের ডেটা গভর্নেন্স ফ্রেমওয়ার্ক বুঝতে টেলিকম নজরদারি কাঠামো থেকে ডাক আইন পর্যন্ত বিস্তৃত নথিপত্র পড়তে হবে।
টেলিকম খাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি
টেলিকম খাতে পূর্ববর্তী সময়ের আইন ও নীতিমালা পরিবর্তন করে নতুন পারফরম্যান্স বেঞ্চমার্কিং চালু করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে—
তিনি দাবি করেন, এসব পরিবর্তন ছিল “ম্যামথ টাস্ক” এবং শিল্পখাতের বিশেষজ্ঞ, সিইও ও সিটিওদের সঙ্গে সমন্বয় করেই তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ডাক বিভাগের সংস্কার
ডাক বিভাগের ক্ষেত্রেও ১৮৯৮ সালের ডাক আইন পরিবর্তন করে ডাকসেবা অধ্যাদেশ ২০২৬ প্রণয়ন, ডিজিটাল পার্সেল ট্র্যাকিং, নতুন ঠিকানা ব্যবস্থাপনা ও ই-কমার্স সমন্বিত লজিস্টিক প্ল্যাটফর্ম চালুর কথা উল্লেখ করেন তিনি।
দুটি কৌশলপত্র প্রকাশ
দায়িত্ব ছাড়ার আগে তিনি দুটি কৌশলপত্র প্রকাশের কথাও জানান—
তার দাবি, এত স্বল্প সময়ে এত “ফাউন্ডেশনাল কাজ” বিশ্বের খুব কম দেশেই হয়েছে। তিনি সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, ব্যক্তিকে নয়—তার কাজকে মূল্যায়ন করতে হবে।
‘নোট টু সাকসেসর’ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তৈয়্যব জানান, দায়িত্ব ছাড়ার আগে তিনি “নোট টু সাকসেসর” লিখে গেছেন, যাতে ভবিষ্যৎ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি একটি ভিত্তির ওপর কাজ এগিয়ে নিতে পারেন।
এছাড়া জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স, ইন্টার-অপারেবিলিটি ও ওয়ান আইডি ম্যানেজমেন্টের প্রকল্প পরিকল্পনা (ডিপিপি) প্রণয়নের কথাও উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিচ্ছিন্ন ডিজিটাল সিস্টেম একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ন্যাশনাল রেসপনসিবল ডেটা এক্সচেঞ্জ (NRDeX) নিয়ে কাজ এবং ন্যাশনাল সার্ভিস বাস বা ন্যাশনাল এপিআই এক্সচেঞ্জ হাব তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
কড়া বার্তা
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, “পৃথিবীর কোনো দেশে এত ফাউন্ডেশনাল কাজ পাঁচ বছরেও হয়নি—চ্যালেঞ্জ দিলাম।” পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ও অন্যান্য ডিজিটাল রূপান্তর প্রকল্প নিয়ে ধাপে ধাপে লেখার ইঙ্গিত দেন।
ফেসবুক পোস্টে ব্যবহৃত তার ভাষা ও হুঁশিয়ারি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে তার উত্থাপিত দাবিগুলো নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে