দেশে এখনো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের উপযোগী পরিবেশ গড়ে ওঠেনি বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, প্রশাসনের ভেতরে থাকা কিছু সরকারি কর্মকর্তা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করছেন—এমন অভিযোগ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি, এখনো প্রকাশ্য দিবালোকে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে আসন্ন গণভোট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। এতে নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে নেতারা বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন ও সংগ্রামের বিনিময়ে দেশে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে। দেড় হাজার শহীদের আত্মত্যাগ এবং ত্রিশ হাজারের বেশি মানুষের আহত ও পঙ্গুত্ববরণের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশকে কোনো ষড়যন্ত্র বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের কাছে জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ নির্বাচন কমিশন, সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাত না দেখিয়ে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
একই সঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের শতভাগ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়নে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে