80°F শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

‘পুশ-ইন’ বির্তক: সংঘাত নয়, সমাধান চাই

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ৭৫
‘পুশ-ইন’ বির্তক: সংঘাত নয়, সমাধান চাই

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ বা জোরপূর্বক মানুষকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে| যথাযথ যাচাই-বাছাই ও দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই কিছু মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা চালাচ্ছে| অপরদিকে ভারত অবৈধ অভিবাসন রোধের কথা বলছে| এই পরিস্থিতি দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের জন্য একটি স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে দাড়িয়াছে|
পুশ-ইন সমস্যার মূল প্রশ্ন হলো—কোনো ব্যক্তি সত্যিই বাংলাদেশের নাগরিক কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে তাকে সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া তাকে অন্য দেশে ঠেলে দেওয়া ন্যায়সঙ্গত নয়| এতে নিরীহ মানুষ রাষ্ট্রহীনতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে এবং মানবিক সংকট ˆতরি হতে পারে|

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন চুক্তি ও প্রক্রিয়া রয়েছে| এসব প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে যদি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে তা সীমান্তে উত্তেজনা বাড়াবে এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করবে|
তবে সমস্যার সমাধান শুধু কূটনৈতিক ˆবঠকে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না| আন্তরিকতার সাথে দু‘দেশকেই সীমান্তে আটক বা বিতাড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য একটি ¯^চ্ছ ও দ্রুত যৌথ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে| নিয়মিত পতাকা ˆবঠকে আলোচনার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হলে তাকে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রহণ করা যেতে পারে, কিন্তু সন্দেহজনক ক্ষেত্রে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রম করানো উচিত নয়; যা আর্ন্তজাতিক আইন পরিপন্থি|
বাংলাদেশেরও দায়িত্ব রয়েছে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধ করা এবং প্রকৃত নাগরিকদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য আধুনিক তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা|
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির নানা বন্ধনে আবদ্ধ| একটি সীমান্ত সমস্যা যেন সেই বৃহত্তর সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে দু‘দেশকেই সতর্ক থাকতে হবে| আমরা মনে করি পুশ-ইন কোনো স্থায়ী সমাধান নয়; সমাধান হলো পারস্পরিক সমযোতা, সম্মান, তথ্যভিত্তিক যাচাই এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ| সীমান্তে উত্তেজনা নয়, প্রয়োজন দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ|