বাংলাদেশে পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা গেলে কৃষি ও স্থানীয় মানুষের জন্য তা বড় উপকার বয়ে আনবে।
সোমবার দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলা–র বলরামপুর মৌজার সাহাপাড়া এলাকায় একটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের অনেক খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষার পানি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। খালগুলো পুনঃখনন করা হলে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা যাবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচের জন্য তা ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এতে কৃষি উৎপাদনও বাড়বে।
তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে কৃষিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সব খাদ্য বিদেশ থেকে আমদানি করা সম্ভব নয়। তাই পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ পানিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ধাপে ধাপে পরিবারভিত্তিক সহায়তা কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে এবং আগামী মাস থেকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষক কার্ড দেওয়া হবে।
সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প সম্পর্কে তিনি জানান, প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন সম্পন্ন হলে প্রায় ৩১ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। এই খাল থেকে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে এবং প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ এর সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি খালের দুই পাশে সড়ক নির্মাণ ও প্রায় ১০ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন এবং প্রকল্পটি উত্তরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত প্রকাশ করেন।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে