64°F বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সোনালী ব্যাংককে আরও পেশাদার হতে হবে: অর্থ উপদেষ্টা

বস্টন বাংলা, Boston Bangla

প্রকাশ: ০২ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ৮
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সোনালী ব্যাংককে আরও পেশাদার হতে হবে: অর্থ উপদেষ্টা

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সোনালী ব্যাংককে আরও পেশাদার হতে হবে: অর্থ উপদেষ্টা

দেশের আর্থিক উন্নয়নের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সোনালী ব্যাংককে আরও পেশাদারত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। সোমবার রাজধানীর বসুন্ধরায় আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে আয়োজিত সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অর্থ উপদেষ্টা বলেন—বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের কোনো মূলধন ঘাটতি নেই এবং ঋণ–আমানত অনুপাত (এডি রেশিও) সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। ট্রেজারি কার্যক্রমসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা ক্ষেত্রে ব্যাংকটি সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।

অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে এবং এগিয়ে নিতে কাজ করছে উল্লেখ করে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

ঋণ বিতরণ প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বড় ব্যবসায়ীদের তুলনায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসএমই খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, বড় অঙ্কের ঋণে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে, যা বিবেচনায় রাখা জরুরি।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ২০২৫ সালে সোনালী ব্যাংকের অর্জনের জন্য শুভেচ্ছা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি বছরেও ব্যাংকটির এই অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে।

গভর্নর বলেন, মূলধন ঘাটতি শূন্যে নামিয়ে আনতে পারায় সোনালী ব্যাংক প্রশংসার দাবিদার। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ এখন সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটি বছরে ৫ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সতর্কতার সঙ্গে ঋণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা গেলে ভবিষ্যতে এই মুনাফা দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। অতীতে ঋণ বিতরণে যে সমস্যাগুলো ছিল, সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সতর্কতা বজায় রাখার পাশাপাশি সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ারও প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন গভর্নর।

সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি অ্যান্ড সিইও) মো. শওকত আলী খান। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অর্থ বিভাগের সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক।

এ ছাড়া সম্মেলনে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক, উপমহাব্যবস্থাপক, বিভিন্ন শাখার প্রধানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে মতবিনিময়, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও শাখা ব্যবস্থাপকদের ব্যবসায়িক আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বার্ষিক সম্মেলনের কার্যক্রম শেষ হয়।