নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তিতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার, সই হবে ৯ ফেব্রুয়ারি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্কসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তাঁর সঙ্গে থাকবেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান।
এর আগে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল, তা নিয়ে গত বছরের আগস্ট মাসে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হলেও আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। এবার সেই সমঝোতারই আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে ওয়াশিংটনে চুক্তি সই হতে যাচ্ছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
চুক্তি সম্পন্ন করতে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান ঢাকা ত্যাগ করবেন। সফরের প্রথম গন্তব্য জাপান। ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের রাজধানী টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (বিজেইপিএ) সই করার কথা রয়েছে। জাপান সফর শেষ করে তাঁরা সেখান থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন।
রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সইয়ের সময় নির্ধারণ করেছে। তিনি জানান, চুক্তির খসড়া ও নির্ধারিত তারিখে সইয়ের অনুমোদন চেয়ে প্রয়োজনীয় সারসংক্ষেপ ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মহলে পাঠানো হয়েছে।
পাল্টা শুল্কের হার কমবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যসচিব বলেন, বর্তমানে হার ২০ শতাংশ নির্ধারিত আছে। কিছু দেশের ক্ষেত্রে এই হার একই থাকলেও কোথাও এর চেয়ে বেশি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমে শুল্কহার কিছুটা কমতে পারে, তবে চুক্তি সইয়ের আগপর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
এদিকে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) সই হলে বাংলাদেশের রপ্তানিতে বড় সুবিধা মিলবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত ২২ ডিসেম্বর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। একই সঙ্গে জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্য বাংলাদেশে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্প্রতি সই হওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে সরকারের কোনো উদ্বেগ আছে কি না-এ প্রশ্নে বাণিজ্যসচিব বলেন, এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। তাঁর ভাষায়, তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সক্ষমতা অর্জন করেছে এবং বর্তমানে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। অন্যদিকে ভারত বস্ত্র খাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। বিশ্ববাজারে উভয় দেশেরই নিজস্ব জায়গা রয়েছে এবং বাংলাদেশ কাঁচামালের একটি বড় অংশ ভারত থেকেই আমদানি করে থাকে।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে