64°F শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনা: পঞ্চগড়ে হামলার অভিযোগ

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ১৪ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ৩৯
নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনা: পঞ্চগড়ে হামলার অভিযোগ

নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনা: পঞ্চগড়ে হামলার অভিযোগ, বিএনপির অস্বীকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর পঞ্চগড়-১ আসনে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পরাজিত প্রার্থী সারজিস আলম। তার দাবি, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে অন্তত ৩০টির বেশি স্থানে তার দলের নেতা–কর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিএনপি।

শুক্রবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সারজিস আলম বলেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় তার দলের কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির কিছু নেতা–কর্মী তাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও হুমকি দিচ্ছেন। অনেক কর্মী এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “বিএনপি কি এখনো পুরোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি চালিয়ে যেতে চায়? আমরা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে রাজনীতিতে এসেছি। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। যারা অতি উৎসাহী হয়ে এ ধরনের কাজ করছেন, তাদের সংশোধন হওয়ার আহ্বান জানাই। অতীত থেকে শিক্ষা নিন—এক মাঘে শীত যায় না।”

পরে গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে সারজিস আলম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই হামলার ঘটনা শুরু হয়। তার দাবি, আটোয়ারী উপজেলার ধামোর, গোবিন্দপুর, সুখ্যাতি, বড়সিঙ্গিয়া, রামপুর ও রানীগঞ্জসহ একাধিক এলাকায় তার দলের নেতা–কর্মীদের বাড়িঘর ও দোকানে হামলা হয়েছে। একই সঙ্গে পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলা, মীড়গড়, জিয়াবাড়িসহ আরও কয়েকটি এলাকায় হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনেক ক্ষেত্রে কর্মীদের শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, এসব ঘটনার প্রতিবাদে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করা হবে এবং রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি দাবি করেন, দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

অন্যদিকে পঞ্চগড় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সারজিস আলম নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছেন এবং বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী নওশাদ জমিরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এসব অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। তার বক্তব্য, কোথাও কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। যদি এমন কিছু ঘটে থাকে, তাহলে প্রমাণ উপস্থাপন করা উচিত।

এদিকে একই দিনে আটোয়ারী পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে পৃথক একটি ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের আটোয়ারী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুর রহিম (রিপন) ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। বিএনপির নেতা–কর্মীরা এ ঘটনায় শাওন তানজির নামে ছাত্রশক্তির এক নেতাকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছেন। আহত আবদুর রহিমকে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নির্বাচন-পরবর্তী এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তারা খোঁজখবর নিচ্ছে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সহিংসতা ও প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে সব দলের সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।