যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন আইনপ্রণেতার পাঠানো একটি চিঠি নিয়ে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে পাঠানো কোনো চিঠির বিষয়ে সরকার এখনো অবগত নয়।
এর আগে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির পাঁচজন জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি যৌথ চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার এবং মানবাধিকার সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি জাতীয় সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। এ প্রেক্ষাপটে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন। পাশাপাশি আসন্ন ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করা হয়।
মার্কিন আইনপ্রণেতারা আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মূল্যায়নে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না। জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন।
চিঠিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত করা বা কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আইনপ্রণেতাদের মতে, ব্যক্তি-ভিত্তিক জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচারের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে