64°F বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে এপস্টেইনের গোপন বার্তা প্রকাশ, উঠে এলো মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের নাম

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ০১ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ১৩
খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে এপস্টেইনের গোপন বার্তা প্রকাশ, উঠে এলো মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের নাম

খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে এপস্টেইনের গোপন বার্তা প্রকাশ, উঠে এলো মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের নাম
সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিনের মধ্যেই কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন বিষয়টি নিয়ে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান করেছিলেন-এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত নতুন নথিতে।

গত শুক্রবার প্রকাশিত এপস্টেইন-সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার অতিরিক্ত নথিতে দেখা যায়, খাসোগি হত্যার পরপরই এপস্টেইন আনাস আল রশিদ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ই-মেইল ও বার্তার মাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেন।

২০১৮ সালের ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ড ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তদন্ত শেষে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উপসংহারে পৌঁছায়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই হত্যার অনুমোদন দিয়েছিলেন।

নথি অনুযায়ী, হত্যার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এপস্টেইন লিখেছিলেন, ঘটনাটির পেছনে আরও বড় কোনো রাজনৈতিক চাল থাকতে পারে। এক বার্তায় তিনি ইঙ্গিত দেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান (এমবিজেড) হয়তো সৌদি যুবরাজকে কৌশলগতভাবে বিপাকে ফেলেছেন-এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

১২ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে পাঠানো এক বার্তায় আনাস আল রশিদ খাসোগি হত্যাকে ‘ভয়াবহ ও নৃশংস’ বলে উল্লেখ করেন। জবাবে এপস্টেইন লেখেন, বিষয়টি প্রকাশ পেলে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

নথিতে থাকা আরেকটি ই-মেইলে এপস্টেইন দাবি করেন, একটি ‘পরোক্ষ সূত্র’ তাঁকে জানিয়েছে-খাসোগি হত্যা অভিযানে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছিলেন। পরে সেই ফোন হ্যাক হয়ে ভিডিওটি তৃতীয় পক্ষের হাতে পৌঁছে যায়। তবে কে বা কারা ফোনটি হ্যাক করেছে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য নথিতে নেই।

আল রশিদ তাঁর বার্তায় সতর্ক করে বলেন, খাসোগি হত্যাকাণ্ড তখন আর শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং কূটনৈতিক ও গণমাধ্যম যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে। তিনি লেখেন, সৌদি আরব যদি দ্রুত কার্যকর কৌশল না নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, কঠিন হলেও সত্য প্রকাশ করাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা।

১৩ অক্টোবরের আরেকটি কথোপকথনে এপস্টেইন প্রশ্ন তোলেন, খাসোগিকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব কি না। তিনি এটিকে একটি ব্যর্থ গোপন অভিযান কিংবা পরিকল্পিত ফাঁদ হিসেবে দেখানোর সম্ভাবনাও অনুসন্ধান করেন। এসব আলোচনায় তিনি একাধিকবার আবুধাবির শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের নাম উল্লেখ করেন।

নথিতে আরও দেখা যায়, ওই দিন রাতেই এপস্টেইন একটি বার্তা পান, যেখানে প্রেরকের নাম গোপন রাখা হয়েছে। বার্তায় বলা হয়, মোহাম্মদ বিন জায়েদ একটি ‘জরুরি’ বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছেন এবং পরদিন সকালেই সেই বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সর্বশেষ প্রকাশিত নথিতে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও আবার উঠে এসেছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ধনকুবের ইলন মাস্ক, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু ছাড়াও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের নাম উল্লেখ রয়েছে।

এর আগেও প্রকাশিত এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে এসব নাম দেখা গেলেও, নতুন নথি প্রকাশের পর বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।