জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের স্মারকলিপি পাঠ: ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয়-রোবাইয়াত ফাতিমা তনি
সচেতন নাগরিক সমাজ (সিসিএস)-এর সদস্যসচিব রোবাইয়াত ফাতিমা তনি জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো স্মারকলিপি সংবাদ সম্মেলনে তিনি পাঠ করলেও সেটি তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ছিল না। সংগঠনের আহ্বায়ক নীলা ইসরাফিল-এর সরাসরি অনুরোধ এবং তাঁর স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য অনুযায়ীই তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
রোববার দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে তনি বলেন, সংশ্লিষ্ট স্মারকলিপিটি সম্পূর্ণভাবে সংগঠনের উদ্যোগে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এর রচয়িতা তিনি নন। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ভূমিকা ছিল কেবল সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রস্তুত করা লিখিত বক্তব্য পাঠ করা।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেননি। সদস্যসচিব হিসেবে সংগঠনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করতেই তিনি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য পাঠ করেন।
হুমকি ও অপপ্রচারের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে তিনি ও তাঁর পরিবার নানামুখী হুমকির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেন তনি। তাঁর অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিতভাবে অনলাইন বুলিং, ট্রলিং ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
তনি জানান, যারা তাঁকে বা তাঁর পরিবারকে হুমকি দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে সাইবার আইনসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইনের আওতায় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মতপার্থক্য বনাম নিরাপত্তা
রোবাইয়াত ফাতিমা তনি বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে মতের ভিন্নতার কারণে প্রাণনাশের হুমকি, মানহানি বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে সর্বোচ্চ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এর আগে, ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্মারকলিপিটি পাঠ করেন। সে সময় তাঁকে সংগঠনের সদস্যসচিব হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং আহ্বায়ক হিসেবে নীলা ইসরাফিলের নাম উল্লেখ করা হয়। পরে ২২ ফেব্রুয়ারি দেওয়া লিখিত বিবৃতিতে তনি জানান, ব্যক্তিগত কারণে নীলা ইসরাফিল উপস্থিত থাকতে না পারায় তাঁর অনুরোধেই তিনি লিখিত বক্তব্যটি পাঠ করেছিলেন।
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও, তনি জানিয়েছেন—সংগঠনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন ছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে