বস্টন বাংলা ডেস্ক
দীর্ঘ প্রায় সতেরো বছর পর বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামি। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর যদি একটি ঐক্যভিত্তিক সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হয়, তবে সেখানে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে তার দল।
ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
“আমরা এমন একটি সরকার দেখতে চাই যা অন্তত পাঁচ বছর স্থিতিশীলভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারে। যদি রাজনৈতিক দলগুলো একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হয়, তবে আমরাও সরকার পরিচালনায় অংশ নিতে প্রস্তুত।”
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় রাজনীতির বাইরে থাকার পর জামায়াতে ইসলামি আবার সক্রিয়ভাবে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে ফিরছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনমত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দলটি বর্তমানে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন
এক সময় শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নেওয়া জামায়াতে ইসলামি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের রাজনৈতিক ভাষা ও কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। দলটি এখন গণতান্ত্রিক কাঠামো, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে।
রয়টার্স লিখেছে, দলটি বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সম্ভাব্য জোট গঠনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
অতীত ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামির নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলটি কার্যত নির্বাচনী রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস ও অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই বাধা দূর হওয়ায় দলটি আবার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ফিরছে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের বিষয় নয়; বরং এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক অবস্থান
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা বলছে। দলটির আমির বলেন,
“আমরা প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।”
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক গতিপথেও প্রভাব ফেলতে পারে।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে