64°F বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

এপস্টেইন–সংক্রান্ত নতুন নথিতে মোদির নাম, ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ০২ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ৮
এপস্টেইন–সংক্রান্ত নতুন নথিতে মোদির নাম, ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক

এপস্টেইন–সংক্রান্ত নতুন নথিতে মোদির নাম, ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে প্রকাশিত নতুন নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম উঠে আসায় ভারতে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশ করা বিপুলসংখ্যক নথির কয়েকটি অংশে মোদির নাম উল্লেখ থাকার দাবি সামনে আসতেই বিষয়টি ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এ ঘটনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত সরকার। শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির নাম আসার বিষয়টিকে ‘ভিত্তিহীন ও নিন্দনীয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক ভিডিও বার্তায় বলেন, এসব দাবি একজন দণ্ডিত অপরাধীর কল্পনাপ্রসূত ও যাচাইহীন বক্তব্য ছাড়া কিছু নয় এবং এগুলোর কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।

রণধীর জয়সওয়াল জানান, তথাকথিত এপস্টেইন ফাইলসে একটি ই–মেইলে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তাঁর ২০১৭ সালের ইসরায়েল সফরের উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই সরকারি সফরের তথ্য ছাড়া নথিতে থাকা অন্যান্য সব দাবি সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং চরম অবজ্ঞার সঙ্গে প্রত্যাখ্যানযোগ্য। তাঁর মতে, যাচাই না হওয়া এসব নথি ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে সরকারের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ভারতের বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেসসহ বিরোধীরা এ ঘটনায় আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে। রাজ্যসভায় কংগ্রেস সদস্য জয়রাম রমেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, মার্কিন সরকারের প্রকাশিত সর্বশেষ নথিতে মোদির নাম একাধিকবার এসেছে, যার কারণে সরকারকে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়েছে। এরপরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কংগ্রেস নেতা পবন খেরা এ বিষয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছ থেকে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ঘটনাটিকে ‘জাতীয় লজ্জা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, নথিতে এমন কিছু বক্তব্য রয়েছে, যা ভারতের জাতীয় মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির নতুন ট্রান্সপারেন্সি আইনের আওতায় এপস্টেইন–সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা, প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও। এই আইনটি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

সর্বশেষ প্রকাশিত নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইলন মাস্ক, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, যুক্তরাজ্যের প্রিন্স অ্যান্ড্রুসহ একাধিক আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। এর আগেও প্রকাশিত বিভিন্ন নথিতে এসব নাম দেখা গিয়েছিল। নতুন করে মোদির নাম আসায় ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে, যা এখনো থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।