64°F বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

এপস্টেইন কাণ্ডে নতুন নথি প্রকাশ: ট্রাম্প, মাস্ক, গেটসসহ প্রভাবশালীদের নাম উঠে এলো

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ৩১ জানু ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ২৫
এপস্টেইন কাণ্ডে নতুন নথি প্রকাশ: ট্রাম্প, মাস্ক, গেটসসহ প্রভাবশালীদের নাম উঠে এলো

এপস্টেইন কাণ্ডে নতুন নথি প্রকাশ: ট্রাম্প, মাস্ক, গেটসসহ প্রভাবশালীদের নাম উঠে এলো

প্রয়াত ও কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে প্রায় ৩০ লাখ নতুন নথি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। একই সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে আনুমানিক ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও দুই হাজার ভিডিও। আইনে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রমের প্রায় ছয় সপ্তাহ পর এসব নথি জনসমক্ষে আনা হলো।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত একটি আইনের আওতায় এপস্টেইন-সংক্রান্ত সব সরকারি নথি প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়। সেই আইনের ভিত্তিতেই সর্বশেষ এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন প্রকাশিত নথিগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম কয়েক শতবার উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক, মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, ভার্জিন গ্রুপের চেয়ারম্যান রিচার্ড ব্র্যানসন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের নামও নথিতে রয়েছে।

নথিতে দেখা যায়, একসময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেফরি এপস্টেইনের মধ্যে ব্যক্তিগত পরিচয় ও সামাজিক যোগাযোগ ছিল। তবে এপস্টেইনের যৌন অপরাধ সম্পর্কে কোনো ধরনের জ্ঞান থাকার কথা ট্রাম্প বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।

প্রকাশিত কাগজপত্রের মধ্যে এফবিআইয়ের তৈরি একটি তালিকাও রয়েছে, যেখানে ন্যাশনাল থ্রেট অপারেশন সেন্টারের কলসেন্টারে ফোন করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এসব অভিযোগ যাচাইয়ে প্রমাণ মেলেনি এবং সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এপস্টেইনের কোনো ভুক্তভোগীও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেননি বলে জানানো হয়।

নথিতে ইলন মাস্ক ও এপস্টেইনের মধ্যে ইমেইল যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে। ২০১২ সালের একটি ইমেইলে এপস্টেইন মাস্ককে জিজ্ঞেস করেন, হেলিকপ্টারে করে কতজন তার দ্বীপে আসবেন। উত্তরে মাস্ক লেখেন, ‘সম্ভবত শুধু তালুলাহ আর আমি। আপনার দ্বীপে সবচেয়ে উন্মত্ত পার্টি কবে হবে?’

তবে নথিতে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ইলন মাস্ক কখনো এপস্টেইনের দ্বীপে গিয়েছিলেন। এ বিষয়ে মাস্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

নথিতে থাকা একটি খসড়া ইমেইলে এপস্টেইন বিল গেটসের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তিগত অভিযোগ তুলেছেন। সেখানে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, রুশ নারীদের সঙ্গে যৌন যোগাযোগ এবং যৌন রোগে আক্রান্ত হওয়ার মতো দাবিও করা হয়েছে। এমনকি এসব বিষয় সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসের কাছ থেকে গোপন রাখতে অ্যান্টিবায়োটিক চাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।

তবে বিল গেটসের মুখপাত্র এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

নথিতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরের নামও উঠে এসেছে। এপস্টেইনকে বাকিংহাম প্যালেসে আমন্ত্রণ জানানো এবং এক রুশ তরুণীর সঙ্গে নৈশভোজের পরিকল্পনা নিয়ে দুজনের মধ্যে ইমেইল আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া ধনকুবের রিচার্ড ব্র্যানসন ও মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সামাজিক সম্পর্কের ইঙ্গিতও নথিতে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল নথি প্রকাশ এপস্টেইন কাণ্ডকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। যদিও অনেক নাম উঠে এসেছে, তবু কেবল নথিতে উল্লেখ থাকাই অপরাধের প্রমাণ নয়—এ বিষয়টি আলাদা করে গুরুত্ব দিচ্ছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।