রোকন পাঠান
বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন “নতুন” শব্দটি উচ্চারিত হয়, তখন জনগণ একটু থমকে যায়। কারণ ইতিহাস শেখায়—নতুন মুখ মানেই নতুন রাজনীতি নয়। অনেক সময় তা পুরোনো শক্তির নতুন মুখোশ মাত্র। এনসিপিকে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনাও সেই আশঙ্কাকেই জাগিয়ে তুলছে।
এনসিপি জন্ম নিয়েছিল এক ধরনের নৈতিক প্রতিবাদ থেকে—রাজনীতিকে দলীয় কারবার নয়, নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে ভাবার ঘোষণা দিয়ে। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে, সেই নৈতিক উচ্চতা কি ধীরে ধীরে কৌশলগত সুবিধার কাছে নত হচ্ছে?
রাজনীতিতে নিরপেক্ষতা বলে কিছু নেই। কেউ কার সঙ্গে কথা বলছে, কোথায় নীরব থাকছে—সবই রাজনৈতিক অবস্থান। জামায়াতের মতো বিতর্কিত ও ঐতিহাসিকভাবে দায়বদ্ধ একটি দলের সঙ্গে দূরত্ব না রেখে ‘খোলা দরজা’ নীতি নেওয়া মানেই একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া: প্রয়োজনে অতীতকে পাশ কাটানো যাবে।
জামায়াত এখন আর স্লোগানে হাঁটে না, কৌশলে হাঁটে। তারা জানে সরাসরি সামনে এলে সমাজ প্রতিক্রিয়া দেখাবে। তাই তারা খুঁজছে এমন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে নাম না থাকলেও প্রভাব থাকবে। এনসিপি সেই সুযোগ হয়ে উঠলে বিস্ময়ের কিছু থাকবে না।
এই প্রক্রিয়ায় জামায়াত হারাবে কিছুই না। কিন্তু এনসিপি হারাতে পারে তার সবচেয়ে বড় পুঁজি—নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা।
এনসিপির বড় শক্তি তরুণ সমাজ। তারা পুরোনো রাজনীতির ক্লান্তি থেকে মুক্তি চায়। কিন্তু যদি তারা বোঝে যে ‘নতুন রাজনীতি’ আসলে পুরোনো ছায়ার পুনরাবৃত্তি, তবে হতাশা আরও গভীর হবে।
এটা শুধু একটি দলের সংকট নয়—এটা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের প্রশ্ন।
প্রশ্নটা সোজা: এনসিপি কি আদর্শের রাজনীতি করবে, নাকি অঙ্কের রাজনীতি?
সব দরজা খোলা রাখা উদারতা নয়। অনেক সময় তা নৈতিক দেউলিয়াপনা।
ইতিহাস ক্ষমা করলেও জনগণ বারবার করে না।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে