77°F মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটায় ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার বাড়ছে: চেইনঅ্যানালাইসিসের চাঞ্চল্যকর তথ্য

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ২০
ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটায় ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার বাড়ছে: চেইনঅ্যানালাইসিসের চাঞ্চল্যকর তথ্য

রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন সামরিক গোষ্ঠী ড্রোন এবং ড্রোন তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য ডিজিটাল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘চেইনঅ্যানালাইসিস’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মূলত স্বল্পমূল্যের বাণিজ্যিক ড্রোন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ক্রয়ের অর্থায়নে এই প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এ ধরনের ড্রোনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যা বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সহজেই পাওয়া যায়। এর ফলে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এসব ড্রোন কিনছে, তা শনাক্ত করা প্রথাগত আর্থিক ব্যবস্থায় কর্তৃপক্ষের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

চেইনঅ্যানালাইসিসের তথ্যমতে, ড্রোন সংগ্রহের সিংহভাগ কেনাকাটা এখনো প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে হলেও, বর্তমানে ড্রোন সংগ্রহের নেটওয়ার্কগুলো ক্রমেই ব্লকচেইন প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো, এর মাধ্যমে তদন্তকারীরা লেনদেনের উৎস থেকে গন্তব্য পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি মানচিত্রের মতো পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। গবেষকেরা আধা সামরিক গোষ্ঠী বা ড্রোন নির্মাতাদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিগত ডিজিটাল ‘ওয়ালেট’ অনুসরণ করে দেখেছেন যে, কীভাবে ই-কমার্স সাইটগুলো থেকে ড্রোন কেনার জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার অভিযান শুরুর পর থেকে রুশপন্থী গোষ্ঠীগুলো অনুদান হিসেবে প্রায় ৮৩ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি সংগ্রহ করেছে, যার একটি বড় অংশ খরচ হয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে ড্রোন ক্রয়ের পেছনে।

চেইনঅ্যানালাইসিসের জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু ফিয়ারম্যান জানান, ব্লকচেইনের মাধ্যমে একবার বিক্রেতাকে শনাক্ত করতে পারলে লেনদেনের অপর পক্ষ এবং তাদের উদ্দেশ্য যাচাই করার দারুণ সুযোগ তৈরি হয়। প্রতিষ্ঠানটি ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ ডলার মূল্যের ক্রিপ্টো লেনদেনের সঙ্গে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে থাকা ড্রোন সরঞ্জামের মূল্যের হুবহু মিল খুঁজে পেয়েছে। এমনকি ড্রোন ও সরঞ্জামের জন্য দেওয়া অনুরোধ থেকে শুরু করে পণ্য হাতে পাওয়ার ছবি পর্যন্ত সবকিছুই তারা পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত একটি ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে হংকংভিত্তিক এক সরবরাহকারীর কাছ থেকে ড্রোনের যন্ত্রাংশ কেনা হয়েছে।

সামরিক খাতের সামগ্রিক কেনাকাটার তুলনায় ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে হওয়া এই লেনদেনের পরিমাণ এখনো অনেক কম হলেও এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফিয়ারম্যানের মতে, ব্লকচেইন প্রযুক্তি কর্তৃপক্ষকে এমন সব স্পর্শকাতর কেনাকাটা শনাক্ত করতে সাহায্য করছে, যা প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থায় হয়তো অস্পষ্ট থেকে যেত। ব্লকচেইন এমন অনেক স্বচ্ছ তথ্য সরবরাহ করতে পারে যা প্রথাগত ব্যাংক বা অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়, ফলে বিশ্বজুড়ে সামরিক সরঞ্জাম চোরাচালান রোধে এটি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।