54°F বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

দেশজুড়ে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব: ঠান্ডাজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় এক লাখ, প্রাণহানি ৪৬

Online Desk, Boston Bangla

প্রকাশ: ০৫ জানু ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ২০
দেশজুড়ে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব: ঠান্ডাজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় এক লাখ, প্রাণহানি ৪৬

টানা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলমান তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সারা দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। হাড়কাঁপানো এই শীতে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যার চাপ সরাসরি পড়েছে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে—১ নভেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত—শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় এক লাখ মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় ঠান্ডাজনিত জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪৬ জন।
প্রতিবেদন বলছে, উল্লিখিত সময়ে মোট ৯৮ হাজার ৭৪১ জন রোগী ঠান্ডাসংশ্লিষ্ট নানা জটিলতায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন ২৯ হাজার ৫৫৫ জন, যাদের মধ্যে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯ হাজার ১৮৬ জন, এ রোগে প্রাণ গেছে ৬ জনের।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। আর ডায়রিয়ার রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম বিভাগে।
শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, বর্তমানে শিশু রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি গড়ে না ওঠায় এবং প্রচণ্ড ঠান্ডায় শ্বাসনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস ও ডায়রিয়ার মতো রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে শিশু রোগীর সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম জানিয়েছেন, শীতের এই সময়ে শিশুদের বিশেষভাবে উষ্ণ রাখা এবং সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, শীত মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কিংবা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব হাসপাতালকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।