59°F শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ০৭ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ২১
দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে দেশজুড়ে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের ধারণা, নির্বাচনে সম্ভাব্য ভরাডুবি আঁচ করতে পেরেই শেষ মুহূর্তে নির্বাচন বানচালের লক্ষ্যে উসকানিমূলক কর্মসূচি, সংঘাত এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে দলটি।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর একটি আসনের ওই দলের প্রার্থীর সেনাবাহিনীর সঙ্গে অশোভন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অস্ত্র, অবৈধ নির্বাচনী সিল ও ব্যালট উদ্ধারের ঘটনাগুলো নির্বাচনী ষড়যন্ত্রের আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে।

১৪৪ ধারা জারি ও কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও প্রধান উপদেষ্টার রাষ্ট্রীয় বাসভবন যমুনা ঘেরাওয়ের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিস্ময় ও সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটিকে পূর্বপরিকল্পিত নাটক বলে মন্তব্য করছেন। বিশেষ করে যমুনামুখী পূর্বঘোষিত কর্মসূচি কেন আগেই প্রতিহত করা গেল না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দফতরের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরও একই দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। একই সময়ে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের জমায়েত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। নির্বাচনের ঠিক আগে এ ধরনের দাবিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

গত শুক্রবার যমুনা ও আশপাশের এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা ঘেরাওয়ের চেষ্টা এবং সরকারি সম্পদের ক্ষতি করার উদ্যোগ নেওয়ায় জনস্বার্থে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকায় একটি ভবন থেকে বিপুল পরিমাণ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়, যা একটি ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের কথা ছিল। একইভাবে লক্ষ্মীপুরে একটি দোকান থেকে ছয়টি অবৈধ নির্বাচনী সিল উদ্ধারসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের ধারণা, কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এসব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। শরীয়তপুরে সেনাবাহিনীর অভিযানে তিনটি আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ এক নারী নেত্রীকে গ্রেফতারের ঘটনাও পরিস্থিতির ভয়াবহতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অভিযোগ করেছেন, একটি গোষ্ঠী ‘বি-টিম’ ব্যবহার করে রাজধানীর স্পর্শকাতর এলাকায় অবস্থান নিয়ে সরকার ও নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তাদের মতে, পরিকল্পিত সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করাই এসব কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সেনাবাহিনীর মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অশোভন আচরণ, ভোটকে কেন্দ্র করে অস্ত্র ও অবৈধ সিল মজুত এবং ধারাবাহিক সংঘাত-সবকিছু মিলিয়ে এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রেরই ইঙ্গিত বহন করে। নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় এসব ঘটনা গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।