উত্তরাঞ্চলের জেলা ঠাকুরগাঁও–এ হঠাৎ বৃষ্টি ও বাজারে কম দামের কারণে আলু চাষিদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। খেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পচে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক কৃষক দ্রুত আলু তুলে ফেলছেন। তবে বাজারে পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় তাঁদের উৎপাদন খরচও উঠছে না।
জেলার বালিয়াডাঙ্গী এলাকার কৃষক শামসুল হক বলেন, ধারদেনা করে তিনি দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে প্রায় ১৫ টাকা খরচ হলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯ থেকে ১০ টাকায়। বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক একসঙ্গে আলু তুলতে বাধ্য হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়ে দাম আরও কমে গেছে। এতে লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।
একই এলাকার আরেক কৃষক ফেরদৌসী আকতার জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনিই জমিজমা দেখভাল করেন। এবার এক একর জমিতে আলু আবাদ করলেও কম দাম ও ক্রেতা সংকটে তিনি বিপাকে পড়েছেন। আলু বিক্রি করে সন্তানদের জন্য ঈদের কেনাকাটার পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কৃষক মহিদুল ইসলাম জানান, এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে রোপণ, সার, কীটনাশক, সেচ ও উত্তোলনসহ মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। কিন্তু বাজারে বর্তমান দামে বিক্রি করলে সেই খরচও ওঠে না। তাই অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে দ্রুত আলু তুলে ফেলছেন, যাতে পানিতে পচে না যায়।
স্থানীয় বাজারগুলোতেও এর প্রভাব পড়েছে। কৃষকদের আয় কমে যাওয়ায় ঈদ সামনে থাকলেও কেনাকাটায় তেমন ভিড় দেখা যাচ্ছে না। অনেক দোকানদার জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
জেলার কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রায় ২৮ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আলু চাষ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় সাত লাখ টন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর–এর ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলে চাহিদার তুলনায় বেশি আলু উৎপাদন হয়। আলুর ব্যবহার ও সংরক্ষণের সুযোগ বাড়ানো গেলে কৃষকেরা ন্যায্য দাম পেতে পারেন।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে