68°F বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনার আহ্বান আনু মুহাম্মদের

বস্টন বাংলা, Boston Bangla

প্রকাশ: ১৯ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ২৭
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনার আহ্বান আনু মুহাম্মদের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনার আহ্বান আনু মুহাম্মদের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এই চুক্তি করার তাড়াহুড়ো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। তাঁর মতে, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত না নিলেও পারত সরকার।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ওয়াচ’।

আনু মুহাম্মদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। তাঁর ভাষ্য, সরকারের কিছু উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর ভূমিকা দেখে মনে হয়েছে, তারা নীতিনির্ধারকের চেয়ে বরং করপোরেট স্বার্থ রক্ষায় বেশি সক্রিয় ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান Starlink–এর সঙ্গে চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাস্তবে কী ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চুক্তিগুলো দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে। তাই জাতীয় পর্যায়ে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রয়োজনে চুক্তি পুনর্বিবেচনা জরুরি। তিনি আরও বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এই রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো শর্ত থাকলে তা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে তিনি বলেন, সরকার দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানির মাধ্যমে তৈরি পোশাক খাতে শুল্ক সুবিধা মিলবে। তবে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, শর্ত ও অনিশ্চয়তার কারণে সেই সুবিধা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে তা স্পষ্ট নয়। তুলার দাম বৃদ্ধি ও রপ্তানির নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা না থাকার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, নির্বাচনের অল্প কিছুদিন আগে চুক্তি স্বাক্ষরের যৌক্তিকতা ছিল না। তাঁর মতে, বিশ্বের অনেক দেশ এখনো এমন চুক্তিতে সই করেনি; যারা করেছে, তাদের শর্ত তুলনামূলকভাবে অনুকূল।

আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা চুক্তিটিকে ‘অসম ও ক্ষতিকর’ আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও কৃষি-শিল্প খাতে ভর্তুকি সীমিত করার মতো শর্ত থাকলে তা উন্নয়নশীল দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তাঁর মতে, সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা ও জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর আইনি ও নৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, চুক্তির কিছু ধারা ‘অসম চুক্তি’র উদাহরণ হতে পারে, যা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক ও আইনগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ওয়াচের সমন্বয়ক বরকত উল্লাহ মারুফ। আলোচনায় অংশ নেন উন্নয়ন অর্থনীতির গবেষক মাহা মির্জা।