সৌদিতে পাঁচ মাস কাজ না পেয়ে দেশে ফিরলেন প্রবাসী, ঋণের চাপই এখন সবচেয়ে বড় ভয়
৫ লাখ টাকা খরচ করে নতুন স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরব গিয়েছিলেন এক প্রবাসী। কিন্তু পাঁচ মাসের কঠিন প্রতীক্ষার পরেও কাজ না পাওয়ায় তাকে শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরত পাঠানো হলো। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরের চেয়ারে বসে তিনি শুধু হিসাব করছেন কীভাবে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করবেন।
যেদিন তিনি বিদেশ গিয়েছিলেন, বাড়িতে ছিল উৎসবের আমেজ, স্বপ্ন আর প্রত্যাশার আলো। সবাই উদযাপন করছিল নতুন সম্ভাবনার খোঁজে তার যাত্রা। কিন্তু পাঁচ মাস পর দেশে ফেরার দিন এসেছে এক নীরব পরাজয় হিসেবে। স্বপ্নগুলো ভেঙে গেছে, আর বাস্তবের চাপ কেবল বাড়ছে। এখন তার সবচেয়ে বড় ভয় শুধু বিদেশ নয়, বরং বাড়ি ফিরে মুখোমুখি হওয়া পরিবার, বিশেষ করে মায়ের চোখে চোখ রেখে কী বলা হবে তা নিয়েই।
ঋণ এবং ঋণের কিস্তি যেন তার বুকের ওপর ভারী পাথরের মতো বসে আছে। বিদেশে ব্যর্থতার হতাশা এখন বাড়িতে ফিরেই আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। তার মনে প্রশ্ন জেগেছে—মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কী উত্তর দিবে, কীভাবে ব্যর্থতার এই গল্প শোনাবে।
সাধারণভাবে প্রবাসীদের জন্য এটি একটি পরিচিত চিত্র। বিদেশে কাজের সুযোগ পাওয়ার আশায় তারা অনেক অর্থ, সময় ও আত্মত্যাগ করে। কিন্তু প্রত্যাশার সাথে বাস্তবতার মিল না হওয়ায় অনেকেই এই ধরনের মানসিক ও আর্থিক চাপে পড়েন। ঋণের দায়, পরিবারকে হতাশ করার ভয়, এবং নিজেদের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার অনুভূতি মিলিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতি প্রবাসীদের জন্য এক বাস্তব জীবনধারার প্রতিফলন।
এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দেশের বাইরে কাজের সম্ভাবনা সঠিকভাবে যাচাই করা এবং নিরাপদ ও বৈধ পথে প্রবাস যাত্রা করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসীকে সহায়তা ও নিরাপদভাবে দেশে ফেরার ব্যবস্থার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন হতাশার মুখোমুখি হওয়া রোধ করা সম্ভব।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে