66°F মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

রোজার আগেই চড়া ফলের বাজার: সরবরাহ সংকট ও বাড়তি ভাড়ার অজুহাতে বিপাকে সাধারণ ক্রেতা

Rokon Pathan, Boston Bangla

প্রকাশ: ১৮ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ২
রোজার আগেই চড়া ফলের বাজার: সরবরাহ সংকট ও বাড়তি ভাড়ার অজুহাতে বিপাকে সাধারণ ক্রেতা

রোজার আগেই চড়া ফলের বাজার: সরবরাহ সংকট ও বাড়তি ভাড়ার অজুহাতে বিপাকে সাধারণ ক্রেতা

​পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই রাজধানীর বাজারে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দেশি ও বিদেশি ফলের দাম। প্রতিবছর রোজা আসার আগে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার যে সংস্কৃতি দেশে গড়ে উঠেছে, এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আপেল, মাল্টা ও কমলার মতো বিদেশি ফলের পাশাপাশি কলা ও পেঁপের মতো দেশি ফলের দামও আকাশচুম্বী হয়েছে। মূলত সরবরাহ সংকট, বাড়তি পরিবহন খরচ এবং পাইকারি বাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজিকেই এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।

​মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মগবাজার, হাতিরপুল ও রামপুরা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সব ধরনের ফলের দাম কেজিতে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন বিদেশি ফল মাল্টা এখন বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহেও ছিল ২৪০ থেকে ২৬০ টাকার মধ্যে। আপেলের দাম প্রকারভেদে ৩৩০ থেকে ৪০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। একইভাবে কমলার দামও এক লাফে প্রতি পেটিতে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।

​দেশি ফলের বাজারেও বইছে অস্বস্তির হাওয়া। রোজায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ কলার দাম ডজনপ্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। মানভেদে সবরি কলা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং বাংলা কলা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তরমুজের মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হলেও কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ৯০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আনারস ও পেয়ারার দামও আগের তুলনায় অনেক বেশি। ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কথা থাকলেও বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই।

​রামপুরা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা নাজনীন রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত সপ্তাহে যে মাল্টা ২৪০ টাকায় কিনেছি, আজ তার দাম ৩২০ টাকা। আপেলের দামও কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে গেছে। রোজা আসার আগেই যদি এমন অবস্থা হয়, তবে রমজান শুরু হলে সাধারণ মানুষের ফল কেনা সাধ্যের বাইরে চলে যাবে।”

​ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতির জন্য পাইকারি বাজার ও পরিবহন ব্যবস্থাকে দুষছেন। কারওয়ান বাজারের দীর্ঘদিনের ফল ব্যবসায়ী ফজল আমিনের মতে, বাদামতলীসহ বড় আড়তগুলোতে ফলের পাইকারি দাম অনেকটা বেড়ে গেছে। এর ওপর জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে খুচরা পর্যায়ে দামের ওপর প্রভাব পড়ছে। তবে ভোক্তাদের দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি, যেন অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পকেট কাটতে না পারে।