মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন মোড় এসেছে। ইসরায়েল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফকে তাদের কথিত লক্ষ্য তালিকা থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের বিশেষ অনুরোধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলের কাছে এই দুই ইরানি নেতার অবস্থান জানা ছিল এবং তাদের হত্যা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। তবে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছে, যদি তাঁদেরও তালিকা থেকে সরানো হয়, তবে আলোচনা করার মতো কেউ থাকবে না। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে হত্যার পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে বলে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে একটি সংবাদমাধ্যম প্রথম এই তথ্য প্রকাশ করেছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার সুযোগ রাখতে চার থেকে পাঁচ দিনের জন্য এই দুই কর্মকর্তাকে লক্ষ্য তালিকা থেকে সরানো হয়েছে। তবে সেখানে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
বর্তমানে পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক যৌথভাবে মধ্যস্থতা করছে যাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত থামানো যায়। পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যেই তেহরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পনেরো দফার প্রস্তাব পেয়েছে, তবে তেহরান এটি অতিরিক্ত দাবি হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের পক্ষ থেকে পাঁচ দফার পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে এবং বলেছেন, যুদ্ধের সমাপ্তি হবে তাদের শর্তে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান চুক্তির জন্য মরিয়া। তবে আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। পরে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও হামলার শিকার হন।
সর্বশেষ, ইসরায়েল দাবি করেছে যে তারা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর নৌপ্রধান আলিরেজা তাংসিরিকে হত্যা করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কূটনীতি ও সংঘাতের এই টানাপোড়েনে প্রশ্ন একটাই—আলোচনার পথ খুলবে, নাকি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে?
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে