68°F শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

মার্কিন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের সব ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হবে: জাতিসংঘকে ইরানের চিঠি

Rokon Pathan, Boston Bangla

প্রকাশ: ২০ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ৪২
মার্কিন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের সব ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হবে: জাতিসংঘকে ইরানের চিঠি

মার্কিন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের সব ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হবে: জাতিসংঘকে ইরানের চিঠি

তেহরান/নিউইয়র্ক, ২০ ফেব্রুয়ারি - যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদকে ‘বৈধ লক্ষ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। এ অবস্থান জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে ইরান।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) পাঠানো চিঠিতে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সায়েদ ইরভানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও সামরিক তৎপরতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান যাতে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এই চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

ইরানের রাষ্ট্রদূত চিঠিতে লেখেন, ট্রাম্পের ‘যুদ্ধংদেহি বক্তব্য’ সামরিক আগ্রাসনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। তিনি বলেন, এটি শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যেন অবিলম্বে শক্তি ব্যবহারের ‘বেআইনি হুমকি’ বন্ধ করে তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, তারা এখনো কূটনৈতিক সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পারস্পরিকতার ভিত্তিতে তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে থাকা অস্পষ্টতা দূর করতে প্রস্তুত।

তবে চিঠিতে স্পষ্ট সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে—ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন হলে প্রতিরক্ষামূলক জবাবের অংশ হিসেবে অঞ্চলে থাকা শত্রুপক্ষের সব ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার দীর্ঘ শাসনামলে একাধিকবার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও বিদেশি চাপ মোকাবিলা করেছেন। বার্তাসংস্থা Reuters-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও সম্ভাব্য মার্কিন হামলার হুমকি তাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করা হয়, ইসলামী প্রজাতন্ত্র রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসা খামেনির সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন ও আঞ্চলিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।