64°F বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

ক্রিকেটে রাজনীতি ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে: শশী থারুর

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ০২ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ৮
ক্রিকেটে রাজনীতি ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে: শশী থারুর

ক্রিকেটে রাজনীতি ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে: শশী থারুর

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একের পর এক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্ক পরিস্থিতিকে ক্রমেই জটিল করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের কংগ্রেস নেতা ও সাবেক কূটনীতিক শশী থারুর। আসন্ন আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার পাকিস্তানের ঘোষণার পর তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

থারুরের মতে, খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা আর স্বাভাবিক পর্যায়ে নেই। দ্রুত সমাধানে না গেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বড় সংকটে পড়তে পারে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই উত্তাল ক্রিকেট–বিশ্ব

ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে দশম আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে মাঠে প্রথম বল গড়ানোর আগেই মাঠের বাইরের রাজনৈতিক উত্তেজনায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে টুর্নামেন্টটি।

আইসিসি হঠাৎ করে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পাকিস্তান ঘোষণা দেয়, তারা ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে অংশ নেবে না। এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়।

মোস্তাফিজ ইস্যুকে কেন্দ্র করেই সংকটের সূত্রপাত?

বার্তা সংস্থা এএনআই প্রকাশিত এক ভিডিওতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শশী থারুর বলেন, বর্তমান সংকটের সূত্রপাত হয়েছিল বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে।

গত ৩ জানুয়ারি সাম্প্রদায়িক উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজকে দল থেকে সরিয়ে দেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। থারুর এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন,
“খেলাধুলাকে এভাবে রাজনৈতিক রঙ দেওয়াটা লজ্জাজনক। মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতার সঙ্গে করা চুক্তি থেকে বঞ্চিত করা উচিত হয়নি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

বাংলাদেশ বাদ পড়া ও পাকিস্তানের আপত্তি

মোস্তাফিজ ইস্যুর পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়। তবে আইসিসি সেই অনুরোধ গ্রহণ না করে উল্টো বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকেই বাদ দেয়।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তাদের অভিযোগ, ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইসিসি ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করেছে। এই দ্বিমুখী আচরণের প্রতিবাদ হিসেবেই ভারত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি।

‘সবকিছু একসূত্রে গাঁথা’—থারুর

পুরো ঘটনাপ্রবাহকে একই সূত্রে গাঁথা বলে মনে করেন শশী থারুর। তিনি বলেন,
“আমার মনে হয়, বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াটি কিছুটা মাত্রাতিরিক্ত ছিল। তবে সেটিও একই পরিস্থিতির প্রতিফলন। পাকিস্তান মূলত বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের চেষ্টা করছে। পুরো বিষয়টি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার মূল উদ্দেশ্য মানুষের মধ্যে সংযোগ ও সৌহার্দ্য তৈরি করা। অথচ বর্তমান পরিস্থিতি সেই উদ্দেশ্যকে ধ্বংস করছে।

আইসিসির প্রতি দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান

এই সংকট থেকে উত্তরণে আইসিসির ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন থারুর। তাঁর ভাষায়,
“এটি সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এক টেবিলে বসতে হবে। আইসিসি সেই পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এখনই সময় এই অর্থহীন সংঘাত বন্ধ করার। এভাবে চিরকাল চলতে দেওয়া যায় না।”

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না হলে বিশ্বকাপের আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও টুর্নামেন্টের গ্রহণযোগ্যতা বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।