63°F বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

ইরানকে ফের কঠোর বার্তা ট্রাম্পের, চুক্তি না হলে ‘কঠিন পদক্ষেপের’ ইঙ্গিত

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ১১ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ৬
ইরানকে ফের কঠোর বার্তা ট্রাম্পের, চুক্তি না হলে ‘কঠিন পদক্ষেপের’ ইঙ্গিত

ইরানকে ফের কঠোর বার্তা ট্রাম্পের, চুক্তি না হলে ‘কঠিন পদক্ষেপের’ ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুসহ একাধিক বিষয়ে তেহরান ওয়াশিংটনের শর্ত না মানলে সামরিকসহ কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। তাঁর ভাষায়, “হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, নয়তো খুব কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন ইরানের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তা আলী লারিজানি ওমানের সুলতান হাইতাম বিন তারিক আল সাইদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনার ফলাফল নিয়েই তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদারের কথাও বারবার উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। ইরানের নিকটবর্তী জলসীমায় একটি বড় নৌবহর মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নামের একটি বিমানবাহী রণতরিও রয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ ও মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। এতে করে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-পরিচালিত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য সতর্কতা জারি করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসব জাহাজ যেন ইরানের সামুদ্রিক সীমার কাছাকাছি না যায় এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখে।

গত জানুয়ারি থেকে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর নীতি আরও জোরালো করেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, প্রয়োজনে মার্কিন বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

ট্রাম্প ইরানের পরিস্থিতির সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তুলনাও টেনেছেন। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নতুন করে হুমকির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে সমালোচকেরা সতর্ক করে বলছেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ অঞ্চলজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।