64°F বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

বেলুচিস্তানে বড় ধরনের পাল্টা অভিযান: ৯২ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, প্রাণ গেল ১৫ সেনা ও ১৮ বেসামরিক নাগরিকের পাকিস্তানের দাবি

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ০২ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ১০
বেলুচিস্তানে বড় ধরনের পাল্টা অভিযান: ৯২ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, প্রাণ গেল ১৫ সেনা ও ১৮ বেসামরিক নাগরিকের  পাকিস্তানের দাবি

বেলুচিস্তানে বড় ধরনের পাল্টা অভিযান: ৯২ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, প্রাণ গেল ১৫ সেনা ও ১৮ বেসামরিক নাগরিকের

পাকিস্তানের দাবি, হামলার নকশা ভারতের ভেতর থেকেই পরিচালিত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো ব্যাপক অভিযানে অন্তত ৯২ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১৫ জন সদস্য এবং ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। রোববার পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে প্রাথমিক খবরে নিহতের সংখ্যা ৬৮ বলা হলেও, নতুন করে যাচাইয়ের পর নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

একযোগে একাধিক জেলায় হামলা

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার বেলুচিস্তানের কোয়েটা, মাসতুং, নুশকি, ডালবানদিন, খারান, পাঞ্জগুর, তাম্প, গোয়াদর ও পাসনি এলাকায় একযোগে সশস্ত্র হামলা চালায় বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সদস্যরা। হামলাকারীরা নারী, শিশু ও শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে আক্রমণ চালায়।

এই হামলায় ১৮ জন নিরীহ বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যাদের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ বেলুচ পরিবারও রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ।

পাল্টা অভিযানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

হামলার পরপরই সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে পাল্টা অভিযান শুরু করে। আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে তিনজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীসহ মোট ৯২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। এ সময় সংঘর্ষে ১৫ জন সেনাসদস্য বীরত্বের সঙ্গে প্রাণ হারান।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে এখনো সাঁড়াশি অভিযান চলছে এবং হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও সহায়তাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ভারতের দিকে অভিযোগের আঙুল

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এবং বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, এসব হামলার পরিকল্পনা ভারতের ভেতর থেকেই করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকভি বলেন,
“সন্ত্রাসীরা কোথায় বসে এসব হামলা পরিচালনা করছে, তার অকাট্য প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। উপযুক্ত সময়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে সেই প্রমাণ উপস্থাপন করব।”

মুখ্যমন্ত্রী বুগতি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়ার কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে, যদিও হতাহতের ঘটনা গভীরভাবে মর্মান্তিক।

নিরাপত্তা জোরদার, যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঞ্জাব থেকে বেলুচিস্তানে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ডেরা গাজী খানের পুলিশ উপকমিশনার উসমান খালিদ জানান, ফোর্ট মুনরো হাইওয়ে এবং তৌনসা–মুসা খেল সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সরকারের প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন,
“সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।”

তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার হামলাকে সন্ত্রাসীদের একটি ‘মরিয়া প্রচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সন্ত্রাসবাদের বিস্তৃত চিত্র

আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, গত এক বছরে পাকিস্তানে মোট ৫ হাজার ৩৯৭টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, এসব হামলার পেছনে আফগান ও ভারতীয় মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, শুধু গত বছরেই পাকিস্তানজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২ হাজার ৫৯৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।