66°F মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

আমাদের ভুলে যাবেন না"—শপথের দিনে নতুন সরকারের কাছে জুলাই যোদ্ধাদের আকুতি

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ১৭ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ২
আমাদের ভুলে যাবেন না"—শপথের দিনে নতুন সরকারের কাছে জুলাই যোদ্ধাদের আকুতি

​"আমাদের ভুলে যাবেন না"—শপথের দিনে নতুন সরকারের কাছে জুলাই যোদ্ধাদের আকুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

​রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বসানো ডিজিটাল বড় পর্দায় তখন চলছিল নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। হাজারো মানুষের ভিড়ে দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখছিলেন ইমরান হোসেন ও মিজানুর রহমান। তাদের চোখেমুখে নতুন সরকারের আগমনে আনন্দের ঝিলিক থাকলেও হৃদয়ে মিশে ছিল না পাওয়ার এক দীর্ঘশ্বাস। এই দুজনই ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সেই 'জুয়াই যোদ্ধা', যারা স্বৈরাচার পতনের লড়াইয়ে নিজেদের একটি করে চোখ হারিয়েছেন।

​ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আজকের দিন

​২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরায় পুলিশের গুলিতে বাম চোখ হারান শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন। তার শরীরে এখনো রয়ে গেছে অসংখ্য ছররা গুলির স্প্লিন্টার। অন্যদিকে, ৫ আগস্ট বিজয়ের ঠিক আগমুহূর্তে আশুলিয়া থানার সামনে গুলিবিদ্ধ হন মিজানুর রহমান, তিনিও হারিয়েছেন তার বাম চোখটি।

​নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের শপথ গ্রহণ দেখে ইমরান হোসেন বলেন:

​"আমাদের এই ত্যাগের বিনিময়েই আজকের এই সরকারের শপথের পথ তৈরি হয়েছে। আমরা এবং শহীদ ভাইবোনেরা যদি সেদিন রাজপথে জীবন উৎসর্গ না করতাম, তবে দেশ এখনো ফ্যাসিবাদী শাসনের নিগড়েই থাকত। আমাদের একটাই চাওয়া—নতুন সরকার যেন আমাদের এই আত্মত্যাগের কথা ভুলে না যায়।"


 

​চিকিৎসার জন্য হাহাকার

​আন্দোলনের দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো সুচিকিৎসা পাননি বলে অভিযোগ করেন এই দুই যোদ্ধা। ইমরান জানান, তার চোখের অবস্থা এখন সংকটাপন্ন, চিকিৎসকরা চোখটি তুলে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন। শরীরে থাকা স্প্লিন্টারগুলোও বের করা সম্ভব হয়নি।

​মিজানুর রহমান বলেন, "ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমাদের প্রত্যাশা ছিল দ্রুত সুচিকিৎসার ব্যবস্থা হবে। কিন্তু অনেকের হাত-পা পচে যাচ্ছে, আমার চোখটি সাদা হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা শুধু চাই নতুন সরকার আমাদের সুচিকিৎসা, আর্থিক সহায়তা এবং পুনর্বাসনের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।"

​একটিই চাওয়া: সুন্দর বাংলাদেশ

​ইচ্ছে ছিল জুলাই যোদ্ধা হিসেবে সরাসরি সংসদ ভবনের ভেতরে বসে শপথ অনুষ্ঠান দেখার, কিন্তু প্রবেশপত্র না থাকায় সাধারণ মানুষের সাথেই বাইরে দাঁড়িয়ে তা দেখতে হয়েছে তাদের। মিজানুর রহমানের মতে, স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ পাওয়াটাই তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। এখন শুধু চান দেশের সাধারণ মানুষ যেন সুস্থ ও সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারে।

​জুলাই-আগস্টের সেই উত্তাল দিনগুলোতে জীবন বাজি রাখা এই যোদ্ধাদের এখন একটাই দাবি—নতুন সরকার যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আহতদের পাশে দাঁড়ায় এবং শহীদ পরিবারগুলোর সম্মান নিশ্চিত করে।