72°F বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

আগুনের পর মেরামতে গ্রিসে মার্কিন রণতরি, সক্ষমতা নিয়েও নতুন প্রশ্ন

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ৪
আগুনের পর মেরামতে গ্রিসে মার্কিন রণতরি, সক্ষমতা নিয়েও নতুন প্রশ্ন

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকে হঠাৎ করে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জাহাজটির লন্ড্রি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের পর রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় এটি সুদা বে নৌ–সহায়তা কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী।

নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগরে অভিযান শেষে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবেই জাহাজটি বন্দরে নেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিষয়টি কেবল অগ্নিকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়; রণতরিটি আরও গভীর কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে রয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে জাহাজটির প্রধান লন্ড্রি এলাকায় আগুন লাগে। আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও এর প্রভাবে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ৬০০-এর বেশি নাবিককে তাদের নির্ধারিত আবাসন ছেড়ে অন্যত্র সরে যেতে হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে পেন্টাগনের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে জাহাজটির সামগ্রিক কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ উঠে এসেছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ ব্যবস্থা, উন্নত রাডার, শত্রুর আঘাতের মধ্যেও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এবং অস্ত্র পরিবহন ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২২ সালে যুদ্ধকালীন পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই এসব সীমাবদ্ধতা ধীরে ধীরে সামনে আসছে। এমনকি জাহাজটি হস্তান্তরের প্রায় এক দশক পরও বাস্তবসম্মত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এর পূর্ণ সক্ষমতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট মূল্যায়নে বলা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনও এই চাপকে বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে মোতায়েন হওয়ার পর থেকে প্রায় ৯ মাস সমুদ্রে রয়েছে এই রণতরি, যেখানে সাধারণত এমন জাহাজ সাত মাসের বেশি মোতায়েন থাকে না। এই সময়ের মধ্যে এটি ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিয়েছে।

এদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের দাবি, এসব হামলায় ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও রয়েছেন।

এর জবাবে তেহরান ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।