68°F শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

ভেনেজুয়েলায় ক্ষমা আইন স্বাক্ষর, মুক্তি পেতে পারেন শত শত রাজনৈতিক বন্দি

Online Desk, Boston Bangla

প্রকাশ: ২০ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ৩৪
ভেনেজুয়েলায় ক্ষমা আইন স্বাক্ষর, মুক্তি পেতে পারেন শত শত রাজনৈতিক বন্দি

ভেনেজুয়েলায় ক্ষমা আইন স্বাক্ষর, মুক্তি পেতে পারেন শত শত রাজনৈতিক বন্দি

কারাকাস, ২০ ফেব্রুয়ারি — ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ একটি নতুন ক্ষমা আইনে স্বাক্ষর করেছেন। এর ফলে শত শত রাজনীতিবিদ, কর্মী, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীর মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera এ তথ্য জানিয়েছে।

নতুন এই আইনের মাধ্যমে সরকার প্রথমবারের মতো পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছে যে দেশে রাজনৈতিক কারণে অনেকে বন্দি রয়েছেন—যা গত কয়েক দশক ধরে অস্বীকার করে আসছিল কর্তৃপক্ষ।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ৩ জানুয়ারি কারাকাসে হামলা ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-কে অপহরণের ঘটনার পর যে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার অংশ হিসেবেই এ ক্ষমা আইন জারি করা হয়েছে। গত ২৭ বছরে ক্ষমতাসীন দলের বিরোধিতার কারণে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া বিরোধী নেতা, কর্মী, মানবাধিকার রক্ষাকর্মী ও সাংবাদিকদের অনেকেই এ আইনের আওতায় আসতে পারেন।

আইন অনুযায়ী, ২০০২ সালের স্বল্পকালীন অভ্যুত্থান, ২০০৪ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ ও নির্বাচনী প্রতিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ক্ষমা করা হবে। পূর্ববর্তী খসড়ায় অবৈধ কার্যকলাপ উসকে দেওয়া, কর্তৃপক্ষের বিরোধিতা, বিদ্রোহ ও রাষ্ট্রদ্রোহের মতো অভিযোগের উল্লেখ থাকলেও চূড়ান্ত আইনে নির্দিষ্ট অপরাধের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

তবে ২০১৯ সালের সামরিক বিদ্রোহের অভিযোগে দণ্ডিতদের ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া রাজনৈতিক কারণে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ফেরত দেওয়া, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা গণমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ শিথিলের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

ভেনেজুয়েলার বন্দি অধিকার সংগঠন Foro Penal-এর হিসাবে, গত ৮ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৪৪৮ জন মুক্তি পেয়েছেন। তবুও রাজনৈতিক কারণে এখনো ৬০০-এর বেশি ব্যক্তি কারাবন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। বন্দিদের পরিবারের সদস্যরা কয়েক সপ্তাহ ধরে আটককেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করছেন এবং অভিযোগ করেছেন, আগের প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ হয়নি।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আইন ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। তবে আইনটি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে বন্দিদের পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে।