76°F রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে যুদ্ধ প্রবেশ করতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ নতুন পর্যায়ে

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ২৭
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে যুদ্ধ প্রবেশ করতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ নতুন পর্যায়ে

 ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সীমিত স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এরই মধ্যে হাজার হাজার মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে শুরু করেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য এই অভিযান পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হবে না। বরং বিশেষ বাহিনী ও পদাতিক সেনাদের সমন্বয়ে দ্রুত ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে এ ধরনের অভিযানে মার্কিন সেনাদের জন্য ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। ইরানের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, সরাসরি গোলাগুলি এবং বিস্ফোরকের মুখে পড়তে হতে পারে তাদের। সাম্প্রতিক সময়ে ইরাক, কুয়েত ও সৌদি আরবে পৃথক হামলায় অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হওয়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। একদিকে সংঘাত কমানোর ইঙ্গিত, অন্যদিকে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পেন্টাগনের কাজই সম্ভাব্য সব ধরনের সামরিক প্রস্তুতি রাখা, তবে প্রেসিডেন্ট এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

কর্মকর্তাদের মতে, আলোচনায় থাকা প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে পারস্য উপসাগরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখল এবং হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে উপকূলীয় এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালানো।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও আশ্বস্ত করে বলেছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং স্থলসেনা মোতায়েন ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, প্রয়োজনে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এই সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর বিপক্ষে ৬২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। কংগ্রেসেও এ নিয়ে বিভক্তি স্পষ্ট—একাংশ কঠোর বিরোধিতা করলেও অন্য অংশ সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, খারগ দ্বীপ দখল বা ইরানের ভূখণ্ডে অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে এবং তেল স্থাপনাগুলোকে প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

সবমিলিয়ে, পেন্টাগনের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার নিতে পারে এবং যুদ্ধ নতুন এক অনিশ্চিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।