88°F রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

ট্রাম্পের নির্বাচনী জয়ের পর প্রথমবার ৭০ হাজার ডলারের নিচে নামল বিটকয়েন

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ০৫ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ১৩১
ট্রাম্পের নির্বাচনী জয়ের পর প্রথমবার ৭০ হাজার ডলারের নিচে নামল বিটকয়েন

ট্রাম্পের নির্বাচনী জয়ের পর প্রথমবার ৭০ হাজার ডলারের নিচে নামল বিটকয়েন

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দাম ৭০ হাজার ডলারের নিচে নেমে গেছে। বৃহস্পতিবার লেনদেনের এক পর্যায়ে বিটকয়েনের মূল্য কমে দাঁড়ায় প্রায় ৬৯ হাজার ৮০০ ডলারে। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার ৭০ হাজার ডলারের ওপরে ওঠে ডিজিটাল মুদ্রাটি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে যাচ্ছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিটকয়েনের দামে ধারাবাহিক পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

গত বছরের অক্টোবরে বিটকয়েনের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন এক পর্যায়ে এর মূল্য ১ লাখ ২৬ হাজার ডলারের বেশি ছিল। তবে এরপর থেকেই ধীরে ধীরে দরপতনের শুরু হয়।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইন্টারেক্টিভ ইনভেস্টরের বিশ্লেষক ভিক্টোরিয়া স্কলার বলেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা বাড়ায় বিটকয়েনসহ ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ চাপে পড়েছে। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী জয়ের পর শুরুতে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। কারণ, ট্রাম্পকে এই খাতের প্রতি সহানুভূতিশীল ও সমর্থক হিসেবে দেখা হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিটকয়েনের দাম প্রথমবারের মতো ১ লাখ ডলার ছাড়ালে তা প্রকাশ্যে উদযাপনও করেছিলেন তিনি।

তবে পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি বদলে যায়। গত বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে বিটকয়েন বড় ধাক্কা খায়। যদিও ছয় মাস পর আবারও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল ডিজিটাল মুদ্রাটি।

সাম্প্রতিক দরপতনের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তাকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকেরা। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস স্টেবলকয়েন নিয়ন্ত্রণে একটি আইন পাস করলেও, বৃহত্তর পরিসরে ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রস্তাবিত ‘ক্ল্যারিটি অ্যাক্ট’ এখনো সিনেটে আটকে রয়েছে।

এ ছাড়া ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সাবেক ফেডারেল রিজার্ভ গভর্নর কেভিন ওয়ার্শকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার পরও বাজারে প্রভাব পড়ে। ফেডের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ঐতিহ্যবাহী বাজার কিছুটা স্বস্তি পেলেও, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বিক্রির চাপ বাড়ে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের সঙ্গে ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প নিজস্ব ক্রিপ্টোসম্পর্কিত উদ্যোগ প্রচার করায় স্বার্থের দ্বন্দ্বের প্রশ্ন উঠছে।

একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, শুধু ডিজিটাল সম্পদ থেকেই গত বছরে ট্রাম্প পরিবারের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প নিজের নামে একটি নতুন ক্রিপ্টোকারেন্সি চালু করেন। শুরুতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সেই টোকেনের দাম বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে।