77°F মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

তেহরানে বোমা–ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যেও আতঙ্ক কম, ‘জীবনের যুদ্ধ’ মনে করছেন ইরানিরা

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ২০
তেহরানে বোমা–ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যেও আতঙ্ক কম, ‘জীবনের যুদ্ধ’ মনে করছেন ইরানিরা

মাঝেমধ্যেই ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে উড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জঙ্গিবিমান। সেখান থেকে ফেলা হচ্ছে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র। বিভিন্ন স্থাপনায় এসব আঘাত হানায় আগুন জ্বলছে, আকাশে উঠছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। তবে এমন পরিস্থিতিতেও তেহরানবাসীর মধ্যে তেমন আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে না। অনেকেই এই সংঘাতকে নিজেদের অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছেন এবং হামলার জবাব দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ১১তম দিনে রাজধানী তেহরানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গাজী আবদুর রশিদ। তিনি তেহরানের রহ আহান স্কয়ার এলাকায় বসবাস করেন। অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমে আলাপকালে তিনি জানান, স্থানীয়দের মধ্যে ভয় বা আতঙ্কের চেয়ে প্রতিরোধের মনোভাবই বেশি দেখা যাচ্ছে।

গাজী আবদুর রশিদ বলেন, ইরানিরা চলমান পরিস্থিতিকে তাঁদের জীবনের যুদ্ধ হিসেবে দেখছেন। তাই প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং পাল্টা জবাব দেওয়ার বিষয়টি তারা বারবার উচ্চারণ করছেন।

তিনি জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা শুরু হওয়ার পর দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় বন্ধ রয়েছে। তিনি শুধু কর্মস্থল রেডিও তেহরানের কার্যালয়ে গেলে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন। বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যেই নিয়মিত অফিসে যেতে হচ্ছে তাঁকে, ফলে কাছ থেকে যুদ্ধের বাস্তবতা দেখছেন।

সাম্প্রতিক একটি ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় তাঁর মাথার ওপর দিয়ে কয়েকটি যুদ্ধবিমান দ্রুত উড়ে যায়। পরে গভীর রাতে তেহরানের নিচু এলাকাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। বিকট শব্দে আঘাত হানার পর মুহূর্তের জন্য আকাশ আলোকিত হয়ে ওঠে এবং পরে ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর না পাওয়া গেলেও তেহরানের আকাশে মাঝেমধ্যে যুদ্ধবিমান দেখা যাচ্ছে। তবুও শহরের অনেক জায়গায় জনজীবন আংশিক স্বাভাবিক রয়েছে। গণপরিবহন চলাচল করছে, দোকানপাট খোলা থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক কম। অফিস–আদালতের কিছু কার্যক্রমও চলছে।

এদিকে সাম্প্রতিক এক শোকসভায় তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও চত্বরে বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছে বলে জানান তিনি। সেখানে অংশ নেওয়া অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং হামলার প্রতিবাদ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংঘাতের মাঝেও রাজধানীর অনেক বাসিন্দা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে দৈনন্দিন জীবন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।