তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু: ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের সমন্বয়
বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান। প্রথা ভেঙে বঙ্গভবনের বাইরে আয়োজিত এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশে নির্বাচিত সরকারের শাসন শুরু হলো। তারেক রহমানের এই নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ৫০ জন সদস্য স্থান পেয়েছেন, যার মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নবগঠিত এই সরকারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি দেশের তরুণ ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের এক অপূর্ব সমন্বয় লক্ষ্য করা গেছে। এবারের মন্ত্রিসভার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তিন নারী সদস্যের অন্তর্ভুক্তি। পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম ও ফারজানা শারমিন। এ ছাড়াও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে টেকনোক্র্যাট কোটায়, যেখানে ড. খলিলুর রহমান ও মোহাম্মদ আমীন উর রশীদের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে এবং জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং হাফিজ উদ্দিন আহমেদের মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা এই সরকারের নীতিনির্ধারণী ভূমিকায় থাকবেন। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য ডাক পেয়েছেন আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, শেখ রবিউল আলম, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের অভিজ্ঞ নেতা মিজানুর রহমান মিনু ও নিতাই রায় চৌধুরীও মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রীদের তালিকায় মৈত্রী এবং তারুণ্যের শক্তিশালী প্রতিফলন দেখা গেছে। এম রশিদুজ্জমান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও ব্যারিস্টার কায়সার কামালের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে নুরুল হক নূর, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন ও ববি হাজ্জাজ মন্ত্রিসভায় স্থান করে নিয়েছেন। এছাড়াও মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, হাবিবুর রশীদ, রাজীব আহসান এবং মীর শাহে আলমের মতো নেতারাও সরকারের নির্বাহী বিভাগে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীবর্গ আগামীকাল বুধবার সকালেই সচিবালয়ে নিজ নিজ দপ্তরে কাজে যোগ দেবেন। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচিত সরকার দেশের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে