তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন সরকারের সূচনা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
প্রধানমন্ত্রীর শপথের পরপরই নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। প্রথমে পূর্ণমন্ত্রী এবং পরে প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেন। প্রায় দুই দশক পর আবারও বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
ঐতিহ্য ভেঙে নতুন আয়োজন
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানায়, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বঙ্গভবনের পরিবর্তে এবার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। এতে অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়।
অনুষ্ঠান বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে শুরু হয়, যখন প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে মঞ্চে প্রবেশ করেন। উপস্থিত অতিথিরা দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। কয়েক মিনিট পর রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এ শপথ অনুষ্ঠানে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রিতদের মধ্যে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নয়াদিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়া চীন, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটানসহ মোট ১৩টি দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা।
নির্বাচনের ফল ও নতুন মন্ত্রিসভা
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। জোটসঙ্গীরা পায় আরও ৩টি আসন।
শপথ অনুষ্ঠানে একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে প্রতিমন্ত্রীরাও শপথ নেন। নতুন মন্ত্রিসভায় রাজনৈতিক ও টেকনোক্র্যাট—উভয় পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়ায় এখন প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নীতিনির্ধারণে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠন দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে