66°F সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্পের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশে বৃদ্ধি

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ২২ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ২৬
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্পের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশে বৃদ্ধি

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্পের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশে বৃদ্ধি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত সব পণ্যের ওপর অস্থায়ী শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হবে। এই ঘোষণা আসে সুপ্রিম কোর্ট তার পূর্ববর্তী শুল্ক কর্মসূচি বাতিল করার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। খবর জানিয়েছে Reuters।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে রায় দেয়, যে ট্রাম্প অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থার আইনের অধীনে উচ্চ হারের শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা অতিক্রম করেছেন। রায়ের পরপরই ট্রাম্প ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। শনিবার তিনি সেই হার আরও বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার কথা জানান।

ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপ ‘সেকশন ১২২’ নামে পরিচিত একটি আলাদা আইনের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। এই আইনে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের অনুমতি রয়েছে, তবে ১৫০ দিন পর তা বাড়ানোর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। কোনো প্রেসিডেন্ট আগে এই ধারাটি ব্যবহার করেননি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের ফলে ট্রাম্প নতুন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ও কংগ্রেস সদস্যদের মধ্যে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস এই শুল্ক বাড়ানোর অনুমোদন দেবে কি না। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ক্রমবর্ধমান সংখ্যক আমেরিকান এই শুল্ককে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য দায়ী করছেন।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আমদানি নীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস পর্যবেক্ষণ দেন, যে প্রেসিডেন্ট এমন অসাধারণ ক্ষমতার দাবি করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি একতরফাভাবে সীমাহীন পরিমাণে, অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য এবং বিস্তৃত পরিসরে শুল্ক আরোপ করতে পারেন। তবে এর প্রয়োগের জন্য কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন থাকা জরুরি। আদালত আরও উল্লেখ করে যে, ট্রাম্পের জরুরি ক্ষমতার ভিত্তি যথেষ্ট নয়।

বিচারকদের এমন সিদ্ধান্ত ভালোভাবে নেননি ট্রাম্প। সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ রায়কে তিনি ‘জাতির জন্য লজ্জাজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আদালতের রায়ে তার গ্লোবাল শুল্ক নীতি বাতিল হয়েছে। রায় ঘোষণার পর শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, বিদেশি স্বার্থের প্রভাবেই আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ট্রাম্প আদালতের উদারপন্থি বিচারকদের ‘জাতির জন্য লজ্জা’ এবং রক্ষণশীল বিচারকদের যারা রায়ের পক্ষে ভোট দিয়েছেন তাদের ‘অসাংবিধানিক ও অরাজনৈতিক’ বলে আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, এই রায় আমাদের দেশের জন্য একটি অপমান।