73°F সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

সংঘাত এড়াতে নেপথ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা: তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তান মধ্যস্থতায়

বস্টন বাংলা, Boston Bangla

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ২৭
সংঘাত এড়াতে নেপথ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা: তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তান মধ্যস্থতায়

সরাসরি বৈঠকের অনুপস্থিতিতেও বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত, ইরানের অস্বীকার সত্ত্বেও ট্রাম্পের দাবি "গঠনমূলক আলোচনা"

নিউইয়র্ক/তেহরান, ২৩ মার্চ ২০২৬: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার কোনো তথ্য না থাকলেও, গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি প্রশমনে তুরস্ক, মিশর এবং পাকিস্তান পর্দার আড়ালে নীরব কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে। Axios-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তিনটি দেশ এই সংবেদনশীল যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সাথে পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন। মধ্যস্থতাকারী সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, "আলোচনা চলমান এবং কিছু অগ্রগতি হয়েছে। প্রধান উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য সংঘাত প্রতিরোধ করা এবং একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করা।"

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে দুই দেশের মধ্যে "গঠনমূলক আলোচনা" হয়েছে। তিনি আরও জানান যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সাথে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ৪৮ ঘণ্টার একটি সময়সীমা নির্ধারণ করলেও পরে তা বাড়ানো হয়, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব ও অনিশ্চয়তাকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

তবে ইরান এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। ইরানের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, "যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি।" ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ট্রাম্পের বক্তব্যকে "ভুল" বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র আসলে সামরিক প্রস্তুতির জন্য সময় নিচ্ছে।

এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কঠোর অবস্থান প্রকাশ করে বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো খারাপ চুক্তি হলে ইসরায়েল তা মেনে নেবে না।"

বিশ্লেষণ: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিতে সরাসরি আলোচনার অভাব সত্ত্বেও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। তবে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, সামরিক প্রস্তুতি এবং আঞ্চলিক স্বার্থের সংঘাতের কারণে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক। আগামী দিনগুলোতে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হয় কিনা, তা দেখার বিষয়।