54°F বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

‘সামাজিক ন্যায়বিচার ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার—এই দুই মূল্যবোধে কোনোদিন আপস করেনি সে’

Online Desk, Boston Bangla

প্রকাশ: ২২ নভে ২০২৫ | নিউজটি দেখেছেন: ২৮
‘সামাজিক ন্যায়বিচার ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার—এই দুই মূল্যবোধে কোনোদিন আপস করেনি সে’

নভেম্বরের শুরুতেই নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনে ব্যাপক ব্যবধানে জয়ী হন ডেমোক্রেটিক সমাজতন্ত্রী জোহরান মামদানি। তার এই অবিশ্বাস্য সাফল্য শুধু নিউইয়র্ক নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষত, আমেরিকার বামপন্থী রাজনৈতিক ধারা যেন তার জয়ে নতুন করে শক্তি ফিরে পেয়েছে।

অদ্ভুত হলেও সত্য, মাত্র এক বছর আগেও তার সমর্থন ছিল নামমাত্র—মাত্র ১ শতাংশ। সেখান থেকে উঠে এসে ভূমিধ্বস জয় অর্জন করা ছিল রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তন।

এই ফলাফল জোহরানের পরিবারকেও বিস্মিত করেছে। বিশেষত তার বাবা, বিশ্বখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ ও উপনিবেশ-পরবর্তী রাজনীতি বিশেষজ্ঞ মাহমুদ মামদানি। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
“এটা আমাদের জন্য বিশাল এক চমক। আমরা কখনো ভাবিনি সে নিউইয়র্কের মেয়র হবে।”

মাহমুদের মতে, জোহরানের এই জয় মার্কিন রাজনীতির পরিবর্তিত জনমতের স্পষ্ট প্রতিফলন।
নির্বাচনী প্রচারণায় জোহরান মূল গুরুত্ব দেন জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, নাগরিক সেবা উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের দ্বারা ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সরব অবস্থানও বজায় রাখেন—যা দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে উপেক্ষিত ছিল।

নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে তিনি হতে যাচ্ছেন প্রথম মুসলিম মেয়র এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি

মাহমুদের ভাষায়,
“তার কাছে দু’টি বিষয় সবসময় অগ্রাধিকার পেয়েছে—সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার। এই দুটি ইস্যুতে সে কখনো আপস করেনি।”

জুন মাসে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে পরাজিত করে প্রথমবার এগিয়ে আসেন জোহরান। চূড়ান্ত ভোটে তিনি পান ৫৬ শতাংশ সমর্থন। পরে কুয়োমো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলেও ৪ নভেম্বরের ভোটে আবারও বড় ব্যবধানে হারেন। সেদিনও মামদানি পান ৫০ শতাংশের বেশি ভোট।

যদিও এই জয় তার বাবাকে বিস্মিত করেছে, তবে জোহরানের সাহস, ধৈর্য ও অধ্যবসায় তাকে কখনো অবাক করেনি। মাহমুদ বলেন,
“আমরা ভাবিনি সে জিতবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে—এটা জানতাম।”

তিনি আরও যোগ করেন,
“সে ভালোবাসা আর ধৈর্যের মধ্যে বড় হয়েছে। ধীরে চলা মানুষ, বিশেষত বয়স্কদের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হয়—এটা সে ছোটবেলা থেকেই শিখেছে। আমেরিকান শিশুদের মতো নয়, যারা দাদা-দাদিকে খুব কমই দেখে।”

তার এই বহুমুখী সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা মানুষের প্রতি সংবেদনশীলতা, সহানুভূতি ও বাস্তবতার গভীর উপলব্ধি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন মাহমুদ।