63°F সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

রাষ্ট্রপতি পদে কার নাম? বিএনপির ভেতরে শুরু আলোচনা

বস্টন বাংলা, Boston Bangla

প্রকাশ: ১৬ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ৩২
রাষ্ট্রপতি পদে কার নাম? বিএনপির ভেতরে শুরু আলোচনা

রাষ্ট্রপতি পদে কার নাম? বিএনপির ভেতরে শুরু আলোচনা

বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে-এমন প্রেক্ষাপটে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সম্ভাব্য একাধিক নাম ঘুরছে। তবে দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর নাম জোরালোভাবে বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান-এর নামও আলোচনায় আছে। তবে মোশাররফ হোসেনের সম্ভাবনাই বেশি বলে দলীয় মহলে ধারণা করা হচ্ছে।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠনের পথে। আগামীকাল সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ হতে পারে। মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে দলের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি পদ নিয়েও নীতিনির্ধারক মহলে কথাবার্তা শুরু হয়েছে।

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন সরকার গঠনের পর পদত্যাগ করতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা Reuters-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যেতে আগ্রহী। যদিও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর, অর্থাৎ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর দায়িত্ব পালনের কথা। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি আগাম সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত খন্দকার মোশাররফ হোসেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। ৭৯ বছর বয়সী এই নেতা কুমিল্লা–১ আসন থেকে এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি ও জুন) এবং ২০০১ সালে সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৯১ সালে জ্বালানিমন্ত্রী এবং ২০০১ সালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন বলেও জানা যায়।

দলীয় একটি সূত্র বলছে, মোশাররফ হোসেন তুলনামূলকভাবে কম বিতর্কিত ও সংযত রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। তিনি অনেক সময় নিজেকে আড়ালে রাখেন, যা রাষ্ট্রপতি পদের জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে নজরুল ইসলাম খানও দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি সম্প্রতি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দলের পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন। তবে দলীয় একটি অংশ তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দেখার পক্ষে মত দিচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও রাজনৈতিক মহলের ধারণা, মন্ত্রিসভা গঠনের পরপরই এ বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতির নাম জানা যেতে পারে।