66°F সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হলেন শামা ওবায়েদ, প্রথমবারের মতো সংসদে

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ১৮ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ৩৩
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হলেন শামা ওবায়েদ, প্রথমবারের মতো সংসদে

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হলেন শামা ওবায়েদ, প্রথমবারের মতো সংসদে

বাবা বিএনপির মহাসচিব ছিলেন, সেই রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবার নিজেই সংসদ সদস্য এবং প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন শামা ওবায়েদ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর গঠিত নতুন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে শপথ নেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে টেকনোক্র্যাট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত খলিলুর রহমান-কে। একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন শামা ওবায়েদ।

ফরিদপুর-২ থেকে জয়

৫২ বছর বয়সী শামা ওবায়েদ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি দলীয় চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সহায়ক কমিটিতেও যুক্ত ছিলেন তিনি। এবারের নির্বাচনে ফরিদপুর-2 (সালথা ও নগরকান্দা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ লাখ ২১ হাজার ৯৯৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এটিই তাঁর প্রথম সংসদ সদস্য হওয়া।

রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসা

শামা ওবায়েদের জন্ম ১৯৭২ সালের ১৪ মে। তাঁর বাবা কে এম ওবায়দুর রহমান ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং আশির দশকে বিএনপির মহাসচিব। তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সরকারে মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। শামা ওবায়েদের মা শাহেদা ওবায়েদ শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন।

২০০৭ সালে বাবার মৃত্যুর পর শামা ওবায়েদ সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রথম অংশ নিলেও জয় পাননি। ২০১৮ সালে প্রার্থী হলেও পরবর্তীতে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

নাগরিকত্ব ও দলীয় বিরোধ

একসময় তাঁর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে গত ২০ নভেম্বর তিনি সেই নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন।

ফরিদপুর-২ আসনে মনোনয়ন নিয়ে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। গত বছরের ২১ আগস্ট দুই পক্ষের সমর্থকদের সংঘর্ষে একজন নিহত হন। ওই ঘটনার পর দলীয়ভাবে উভয়ের পদ স্থগিত করা হলেও কয়েক মাস পর তা প্রত্যাহার করা হয়।

শামা ওবায়েদের বিরুদ্ধে একটি মামলাসহ মোট ১৮টি মামলার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন।

পেশা ও সম্পদের বিবরণ

হলফনামায় নিজের পেশা ব্যবসা বলে উল্লেখ করেছেন শামা ওবায়েদ। তিনি অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অ্যাভোসিল্ক সলিউশনের চেয়ারম্যান এবং ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের জেনারেল সেক্রেটারি। তাঁর স্বামী শোভন ইসলাম (মুস্তাজিরুল শোভন ইসলাম) ব্যবসায়ী। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

বার্ষিক আয় হিসেবে তিনি দেখিয়েছেন ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা। এর মধ্যে চাকরি থেকে ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৭ টাকা এবং সম্মানী ভাতা ৯৬ হাজার টাকা।

সম্পদের বিবরণে তিনি ঢাকার বনানীতে একটি ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ করেছেন, যার অর্জনকালীন মূল্য ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি টাকা। নগদ রয়েছে ২ কোটি ৫২ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৪ টাকা, ব্যাংকে জমা ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৯১২ টাকা, শেয়ার ও বন্ড ৫০ লাখ টাকার। এছাড়া ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের একটি জিপ গাড়ি রয়েছে তাঁর। ফ্ল্যাট কেনার জন্য ব্যাংক ঋণ রয়েছে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৪ টাকা। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পটভূমি, দলীয় অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামা ওবায়েদের ভূমিকা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।