66°F বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

অ্যাটর্নি জেনারেল থেকে আইনমন্ত্রী: প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রিসভায় আসাদুজ্জামান

Rokon Pathan, Boston Bangla

প্রকাশ: ১৮ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ৪৮
অ্যাটর্নি জেনারেল থেকে আইনমন্ত্রী: প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রিসভায় আসাদুজ্জামান

অ্যাটর্নি জেনারেল থেকে আইনমন্ত্রী: প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রিসভায় আসাদুজ্জামান

জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান এবার সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রথমবার জাতীয় সংসদে পা রেখেই তিনি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন সরকার গঠন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আসাদুজ্জামান।

১৯৭১ সালের ৩১ জানুয়ারি ঝিনাইদহের শৈলকুপার বারইপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা শেখ মো. ইসরাইল হোসেন মাস্টার এবং মা মোছা. রোকেয়া খাতুন। যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীন গাড়াগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে মাধ্যমিক এবং শৈলকুপা ডিগ্রি কলেজ থেকে ১৯৮৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে ১৯৯৩ সালে স্নাতক ও ১৯৯৪ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

স্কুলজীবনেই তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালে জাসদ ছাত্রলীগে যুক্ত হন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ১৯৯২ সালে জাসদ ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ১৯৯৪ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি ওই সংগঠন থেকে সরে দাঁড়ান।

২০০৪ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক হন। দলটির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে সক্রিয় অবস্থান নেন। পাশাপাশি ২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।

শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৯৫ সালে আইন পেশায় যুক্ত হন আসাদুজ্জামান। প্রথমে আইনজীবী নিজামুল হক নাসিমের সঙ্গে কাজ করেন, পরে ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের চেম্বারে যুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এবং ২০০৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দেশের সপ্তদশ অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর সেই পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু ছালেহ মো. মতিউর রহমানের চেয়ে ১ লাখ ১৬ হাজার ২১ ভোট বেশি পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, গত অর্থবছরে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৭ টাকা। তাঁর নামে ৯ কোটি ৮৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫৬ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ২ কোটি ১০ লাখ ৪ হাজার ৫৬৮ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।

স্ত্রী শিরীন সুলতানা শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। আইন পেশা, মানবাধিকার আন্দোলন এবং রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার আইনমন্ত্রী হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করলেন মো. আসাদুজ্জামান।