91°F সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

ওসমান হাদি হত্যা মামলায় পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ সাংমা ভারতে গ্রেপ্তার

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ১২৫
ওসমান হাদি হত্যা মামলায় পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ সাংমা ভারতে গ্রেপ্তার

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই আসামিকে বাংলাদেশ থেকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে ফিলিপ সাংমা নামে এক ব্যক্তিকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুর এলাকার কাছ থেকে তাকে আটক করে ভারতের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। কলকাতার কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এ বিষয়ে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনকেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফিলিপ সাংমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশে তিনি সহায়তা করেছিলেন। পরে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনিও অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন।

গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এসটিএফ।

এর আগে গত শনিবার দিবাগত রাতে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ছয় দিন পর সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার দিনই ফয়সাল ও আলমগীর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। তাদের সীমান্ত পার হতে সহায়তা করেন নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী) এবং স্থানীয় দালাল চক্র।

হালুয়াঘাট সীমান্তসংলগ্ন ভুটিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফিলিপ সাংমা ওই দালালদের একজন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে তার দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত ভারতে তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছেন—ফয়সাল, আলমগীর ও ফিলিপ সাংমা। এদিকে হত্যাকাণ্ডের মামলায় দেশে এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম চৌধুরীসহ আরও দুজন এখনো পলাতক।

গত ৭ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করলেও মামলার বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।