যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনথিভুক্ত বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির সরকার। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন বাংলাদেশিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-এর অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্তে জোরালো অভিযান পরিচালনা করছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বৈধ ভিসা বা বসবাসের অনুমতি ছাড়াই দেশটিতে অবস্থান করছিলেন।
অভিবাসন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন, আবার কেউ কেউ সীমান্ত অতিক্রম করে অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করেছিলেন। এসব কারণে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, যেসব বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হবে তাদের পরিচয় যাচাই এবং দেশে ফেরার পর পুনর্বাসন সংক্রান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কঠোরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যতে অনথিভুক্ত প্রবাসীদের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তারা প্রবাসীদের বৈধ উপায়ে বিদেশে যাওয়ার এবং নির্ধারিত নিয়ম-কানুন মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এই খবরে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। অনেকেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। একই সঙ্গে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারিভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিদেশে যাওয়ার আগে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি প্রবাসীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে