ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খান দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার ঢাবির আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ভিসি বলেন, সংকটকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখার জন্য তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেই সংকটকাল অনেকটাই কেটে গেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে একটি ইতিবাচক ও ঊর্ধ্বমুখী ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, আপৎকালীন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে দূর হচ্ছে। এখন মনে করছি, দায়িত্ব পালনের একটি গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে আমরা পৌঁছেছি। তাই আমি সরে দাঁড়াতে চাই। তবে হঠাৎ করে যেন কোনো শূন্যতা বা প্রশাসনিক বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক থাকার কথা জানান।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ও ‘স্মুথ ট্রানজিশন’ নিশ্চিত করার স্বার্থে সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা প্রয়োজন মনে করলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে তিনি প্রস্তুত আছেন। তাঁর মতে, এতে করে ভবিষ্যৎ প্রশাসনের জন্য রূপান্তর প্রক্রিয়া সহজ হবে।
ভিসি বলেন, দেশবাসীর মতো তিনিও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন একটি নিয়মিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নতুন সরকারের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, আমি সরে দাঁড়াতে চাই, যাতে রাজনৈতিক সরকার তাদের মতো করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সাজাতে পারে। যদি আমার কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, আমি সব সময় প্রস্তুত থাকব।
ড. নিয়াজ আহমেদ খান জানান, বর্তমানে তিনি উপাচার্য পদে ডেপুটেশনে রয়েছেন। তিনি ডেপুটেশন থেকে অব্যাহতি নিয়ে নিজের মূল দায়িত্বে, অর্থাৎ উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতার কাজে ফিরে যেতে আগ্রহী।
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, তিনি হঠাৎ করে পদত্যাগ করে চলে যাচ্ছেন না বা কোনো শূন্যতা তৈরি করছেন না। বরং সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ রেখে দায়িত্ব হস্তান্তরের পথ তৈরি করাই তাঁর লক্ষ্য।
এদিকে বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ভিসি প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খান। তবে তিনি কোনোভাবেই আকস্মিক শূন্যতা বা প্রশাসনিক অচলাবস্থা সৃষ্টি করতে চান না। এ কারণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল চাইলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে তিনি সম্মত।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে ভিসির বক্তব্য নিয়ে কিছু গণমাধ্যমে ভুল ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি ভিসির পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করছেন-এমন সংবাদ তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে