নিহতদের স্মরণে শোক র্যালি ঘিরে তেহরানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পাল্টাপাল্টি অবস্থান
সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত শোক র্যালিকে ঘিরে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইরান। রাজধানী তেহরান-এর একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন। একই সময় আন্দোলনকারী ও সরকার সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ঘটনাও ঘটে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় ও প্রবাসী কয়েকটি ইরানভিত্তিক গণমাধ্যম এ তথ্য জানায়। বার্তাসংস্থা Agence France-Presse (এএফপি) তেহরানের একটি শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত বিক্ষোভের কিছু ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেছে বলে জানিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ভিড়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে এবং ফারসি ভাষায় স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।
বিদেশ থেকে পরিচালিত ফারসি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল Iran International-এর প্রকাশিত ফুটেজেও Sharif University of Technology-এ বিক্ষোভকারীদের সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
৪০তম দিনের শোক পালনে ফের উত্তেজনা
শিয়াধর্মাবলম্বীদের রীতি অনুযায়ী, কোনো মৃত্যুর ৪০তম দিনে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। সেই প্রথা অনুসরণ করেই সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিহতদের স্মরণে চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালিত হয়। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানায়, রাজধানীর কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফার্সের দাবি, শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি প্রথমে শান্তিপূর্ণ ও নীরব ছিল। তবে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান দেওয়া শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে ইঙ্গিত করে এ স্লোগান দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ফার্সের প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি জাতীয় পতাকা হাতে স্লোগান দিচ্ছেন এবং তারা মাস্ক পরা আরেকদল বিক্ষোভকারীর মুখোমুখি অবস্থান নেন। উভয় পক্ষের হাতেই সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহতদের ছবি দেখা যায়।
হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত
গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি দেশজুড়ে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
ইরান কর্তৃপক্ষ তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে। তবে তাদের দাবি, সহিংসতার পেছনে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ জড়িত ছিল এবং বিদেশি শত্রুরা পরিস্থিতি উসকে দিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা HRANA-এর তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা সাত হাজারের বেশি হতে পারে, যাদের বেশির ভাগই বিক্ষোভকারী। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
আন্তর্জাতিক চাপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
এমন এক সময় এসব বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে, যখন পরমাণু চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে বলে জানা গেছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার সমালোচনা করে তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে