মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন আহমদ
চার দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আবারও মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনীতিক হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গঠিত নতুন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে শপথ গ্রহণ করেন। নতুন মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন।
সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য
ভোলা-৩ (লালমোহন–দৌলতখান) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হন তিনি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পান ৫৭ হাজার ৩৫১ ভোট। এর মাধ্যমে সপ্তমবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সামরিক ও মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা
১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভোলার লালমোহনে জন্মগ্রহণ করেন হাফিজ উদ্দিন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ বিদ্রোহ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। জামালপুরের কামালপুর, ময়মনসিংহের গৌরীপুর ও সিলেট অঞ্চলে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য তিনি ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত হন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৮৮ সালেও জয়ী হন। ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচিত হন। ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন। ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে নির্বাচিত হন।
ষষ্ঠ সংসদের পর সংক্ষিপ্তকালীন সরকারে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর নেতৃত্বাধীন সরকারে পূর্ণ মন্ত্রী হন। পাট, পানিসম্পদ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ক্রীড়াঙ্গনে উজ্জ্বল অধ্যায়
রাজনীতির বাইরে ক্রীড়াক্ষেত্রেও রয়েছে তাঁর সাফল্য। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ফুটবলে সুনাম কুড়ান তিনি। পরবর্তীতে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব-এ যোগ দিয়ে দীর্ঘ সময় খেলেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলে খেলেন এবং ১৯৭০ সালে দলের অধিনায়কত্ব করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
আয়-সম্পদের বিবরণ
নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর পেশা হিসেবে ব্যবসার কথা উল্লেখ রয়েছে। বার্ষিক আয় হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা এবং বাড়ি ভাড়া থেকে ১৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। তাঁর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ প্রায় ৮০ লাখ টাকা।
দীর্ঘ সামরিক, ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন দায়িত্বে যাত্রা শুরু করলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে তাঁর ভূমিকা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে