63°F বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী: তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ১২ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ২
ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী: তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন

ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী: তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন, ঐক্যের বার্তা প্রেসিডেন্টের

ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে ইরানের রাজধানী তেহরানে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এতে একাধিক ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।

প্রদর্শনীতে সৌমার, নূর ও কাদির নামের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি হাজ কাসেম, ইমাদ ও জোলফাঘার নামের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসব ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু আগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘ট্রু প্রমিস’ অভিযানের বিভিন্ন ধাপে এবং কাতারের আল উদেইদে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে বার্ষিকী উপলক্ষে তেহরানে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে বক্তব্য দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তার ভাষায়, ইরানি জনগণের ঐক্য ও সক্ষমতা শত্রুদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

পারমাণবিক ইস্যুতে তিনি পুনরায় বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্য রাখে না এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে প্রস্তুত। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অবিশ্বাস আলোচনাকে জটিল করে তুলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট জানান, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সংলাপ অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভ প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মুদ্রার দরপতনকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে বিভিন্ন অভিযোগে বিস্তৃত হয়। তিনি সরকারের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সমস্যার সমাধানে কাজ করার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিদেশি শক্তির উসকানিতে পরিস্থিতি অস্থির হয়েছে।

এদিনের সমাবেশে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আবদোলরহিম মুসাভিও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ইরানে ছয় দশকের পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামি প্রজাতন্ত্র। ১১ ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের সাফল্য দিবস হিসেবে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বিপ্লবের নেতা ইমাম খোমেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তার নেতৃত্বেই সে সময় রাজতন্ত্রের পতন ঘটে।