ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের ভেতরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ সিদ্ধান্তে তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
মেম্ফিসে অনুষ্ঠিত “সেফ টাস্ক ফোর্স”–এর এক গোলটেবিল বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসনের মধ্যে হেগসেথই প্রথম উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন থেকে ঠেকানোর যুক্তিতেই এই অবস্থান নেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, সামরিক অভিযান অনুমোদনের আগে তিনি একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করেন। তাদের মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ এবং সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও ছিলেন।
এই মন্তব্যের পর ওয়াশিংটনে আলোচনার ঝড় উঠেছে। কারণ, ইরানবিরোধী এই অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ভিন্নমত ছিল বলে জানা যাচ্ছে। ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না, যদিও তিনি প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেননি।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযান বর্তমানে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে, যেখানে ইরান ও তার মিত্ররা জড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অভিযান ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, ড্রোন সক্ষমতা এবং নৌ শক্তি দুর্বল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও এ বিষয়ে চাপ ও প্রভাব ছিল বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রুপার্ট মারডকের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রকে উৎসাহিত করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে প্রশাসনের ভেতরের কিছু উপদেষ্টা আরও সতর্ক অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
সব মিলিয়ে, ইরান অভিযানের দায়-দায়িত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে