64°F বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

ইলিশ চাষে সরকারের অনুমোদন নেই, কৃত্রিম পদ্ধতিতে চাষের দাবিকে নাকচ করল মৎস্য মন্ত্রণালয়

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ০২ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ৯
ইলিশ চাষে সরকারের অনুমোদন নেই, কৃত্রিম পদ্ধতিতে চাষের দাবিকে নাকচ করল মৎস্য মন্ত্রণালয়

ইলিশ চাষে সরকারের অনুমোদন নেই, কৃত্রিম পদ্ধতিতে চাষের দাবিকে নাকচ করল মৎস্য মন্ত্রণালয়

ইলিশ মাছ চাষের বিষয়ে সরকার এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং কৃত্রিম বা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে ইলিশ চাষের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি—এ কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

সোমবার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইলিশ মাছের কৃত্রিম পরিবেশে চাষ নিয়ে যে আলোচনা ও তথ্য ছড়িয়েছে, তা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করেছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো অনুমোদন নেই।

আরএএস প্রযুক্তিতে ইলিশ চাষ নিয়ে বৈঠক

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম (আরএএস) প্রযুক্তি ব্যবহার করে আবদ্ধ, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ও নিবিড় পদ্ধতিতে ইলিশসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ চাষের সম্ভাবনা নিয়ে রোববার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইলিশ চাষ সংবেদনশীল ও নীতিনির্ভর বিষয়

সভার আলোচনায় উঠে আসে, ইলিশ মাছ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য। দেশের নদী ও উপকূলীয় প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র, খাদ্যনিরাপত্তা, ঐতিহ্য এবং লাখো জেলে ও মৎস্যজীবীর জীবিকার সঙ্গে ইলিশ সরাসরি জড়িত।

মন্ত্রণালয়ের মতে, ইলিশের উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা প্রাকৃতিক প্রজনন চক্র ও নদীনির্ভর পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ইলিশ চাষ বা গবেষণা–সংক্রান্ত যেকোনো উদ্যোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং নীতিনির্ভর বিষয় হিসেবে বিবেচিত।

অনুমোদন ছাড়া কোনো উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইলিশ মাছসংক্রান্ত যেকোনো গবেষণা, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বা প্রযুক্তিগত উদ্যোগ বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার আলোকে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে পরিচালিত হতে হবে। অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের কোনো কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে সাধারণ জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের উদ্যোগ ঘিরে আলোচনা

এর আগে গত ২২ জানুয়ারি প্রাণ–আরএফএল গ্রুপ জানিয়েছিল, তারা কৃত্রিম পদ্ধতিতে ইলিশ মাছ চাষের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্যে ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান অ্যাসেনটপ্ট অ্যাকুয়া এবং প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো লিমিটেডের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।

প্রাণ–আরএফএলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, প্রকল্প বাস্তবায়নে যৌথভাবে দুই বছরে প্রায় ৩ কোটি ইউরো বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে এবং ইলিশ ছাড়াও এশিয়ান সিবাস ও গ্রুপার মাছ চাষের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

প্রাণ–আরএফএলের ব্যাখ্যা

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ইলিশ চাষ নিয়ে আলোচনা ছিল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ। প্রাথমিক পর্যায়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।

তিনি বলেন, “প্রকল্পটি বাস্তবসম্মত ও কৌশলগতভাবে গ্রহণযোগ্য হলে পরবর্তী সময়ে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হবে। সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনো কার্যক্রম পরিচালনার প্রশ্নই আসে না।”